জার্মানির কোবলেনজ শহরে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে এক মার্কিন পর্যটককে যৌন নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় ৮১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আদালতে দায় স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। জার্মান গোপনীয়তা আইনের কারণে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
কোবলেনজ জেলা আদালতে শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী ভলকার ক্লেইন জানান, তার মক্কেল অপরাধের বিষয়টি পুরোপুরি স্বীকার করেছেন। বিচারক রুপার্ট স্টেহলিন অভিযুক্তকে সরাসরি প্রশ্ন করলে ৮১ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ মাথা নেড়ে অপরাধের কথা নিশ্চিত করেন।
ঘটনাটি ১৯৯৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের। সে সময় ২৪ বছর বয়সী অ্যামি লোপেজ পর্যটক হিসেবে কোবলেনজ ভ্রমণে এসেছিলেন। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি—যিনি সেই সময় ৪৯ বছর বয়সী ছিলেন—মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অ্যামিকে এরেনব্রাইটস্টাইন দুর্গের একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে হাতকড়া পরিয়ে যৌন নির্যাতনের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এছাড়া, অ্যামি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ এবং মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বলে সংবাদ সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় শিশুরা তার মরদেহ খুঁজে পায়।
দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা এই মামলাটি নতুন ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রহস্য উন্মোচিত হয়। ভুক্তভোগীর পোশাক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অভিযুক্তের ডিএনএ মিলে যাওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি হয়। এর ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে কোবলেনজ এলাকার একটি নার্সিং হোম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাক-বিচার আটকাবস্থায় রয়েছেন। আদালতে মোট আট কার্যদিবসের বিচার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

