চাকরি দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? বৈষম্য ও গোপনীয়তার অভিযোগে মামলা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কি আপনার চাকরি পাওয়ার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে এআই টুলের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং এর ফলে তৈরি হওয়া বৈষম্য নিয়ে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।

এরিন কিস্টলার নামের প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রোডাক্ট ম্যানেজার গত চার বছরে পেপ্যাল, মাইক্রোসফট এবং নেটফ্লিক্সের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার চাকরির আবেদন করেছেন। কিন্তু তার জীবনবৃত্তান্ত (রেজুমে) যেন কোনো এক ‘ব্ল্যাক হোল’ বা কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে গেছে। একটি ইন্টারভিউয়ের ডাকও পাননি তিনি। নিজের যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন এমন হলো, তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে কিস্টলার এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

গত জানুয়ারি মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে এইটফোল্ড এআই (Eightfold AI)-এর বিরুদ্ধে একটি যৌথ মামলা (ক্লাস-অ্যাকশন লসুট) দায়ের করেছেন কিস্টলার। এইটফোল্ড এআই-এর সফটওয়্যারটি শত শত বড় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে থাকে। কিস্টলারের আইনজীবীদের দাবি, এই স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা মূলত আবেদনকারীদের অজান্তেই তাদের একটি প্রোফাইল তৈরি করে এবং সফলতার সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তাদের র‍্যাঙ্কিং বা নম্বর দেয়। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীদের এই ফলাফল দেখার বা চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না।

চাকরি ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা নয়। মেটা (Meta)-র বিরুদ্ধেও একটি মামলা চলছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অভ্যন্তরীণ এআই সিস্টেম ব্যবহার করে মাতৃত্বকালীন বা চিকিৎসাজনিত ছুটি নেওয়া কর্মীদের ছাঁটাইয়ের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। অন্যদিকে, আইবিএম (IBM)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় অভিযোগ উঠেছে যে তাদের ব্যবহৃত এআই টুলগুলো বয়স্ক কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়োগকর্তা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো না কোনো ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই টুলগুলো সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই থেকে শুরু করে প্রাথমিক ফোন ইন্টারভিউ নেওয়ার কাজও করে থাকে। এইটফোল্ড এআই নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিভার ডাটাবেস হিসেবে দাবি করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০০ কোটিরও বেশি কর্মীর রেজুমে, লিংকডইন প্রোফাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য প্রতিনিয়ত আপডেট করে এবং এআই-এর মাধ্যমে আবেদনকারীদের ০ থেকে ৫ স্কেলে নম্বর দেয়।

কিস্টলারের আইনজীবী র‍্যাচেল ডেম্পসি বলেন, "সমস্যার বড় অংশটি হলো চাকরিপ্রার্থীরা জানেনই না যে এই রিপোর্টে তাদের সম্পর্কে কী বলা হচ্ছে।" তিনি দাবি করেন, ক্রেডিট রিপোর্টের মতো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও চাকরিপ্রার্থীদের স্বচ্ছতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

অবশ্য এইটফোল্ড এআই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র জানান, এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে লড়াই করবেন। আইবিএম-ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থী বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে তারা কোনো ধরনের বৈষম্য সমর্থন করে না। মেটা অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এই সফটওয়্যার মানুষের ব্যক্তিগত পক্ষপাত দূর করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এমরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক ইফোমা আজুনওয়া বলেন, "বাস্তবে এই সিস্টেমগুলো মানুষের মধ্যকার পক্ষপাতগুলোকেই আবার ফিরিয়ে আনে।" তিনি জানান, আমাজন একসময় এমন একটি এআই টুল ব্যবহার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল যা নারী প্রার্থীদের রেজুমে বাদ দিয়ে দিত। এছাড়া সাউদার্ন অ্যাকসেন্ট বা দক্ষিণ অঞ্চলের টানে কথা বলা প্রার্থীদেরও এআই ইন্টারভিউতে কম নম্বর দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর সহকারী অধ্যাপক শুয়েচুনজি বাই-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের চেয়ে এআই-এর সিদ্ধান্তগুলো অনেক বেশি পক্ষপাতদুষ্ট হয়। বিশেষ করে নতুন এবং উন্নত মডেলগুলোতে এই বৈষম্যের হার আরও বেশি। অধ্যাপক আজুনওয়া সতর্ক করে বলেন, একজন মানুষ রিজেক্ট করলে অন্য প্রতিষ্ঠানে চেষ্টা করা যায়, কিন্তু এআই সিস্টেম একবার কাউকে রিজেক্ট করলে সেই তথ্য মনে রাখে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানেও তাকে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকবল) করে ফেলে।

অ্যালগরিদমিক মনোকালচারের কারণে চাকরিপ্রার্থীদের পুরোপুরি সুযোগবঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষক কেটি ক্রিল। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ভিন্ন পথও বেছে নিচ্ছে। ইনক্রেডিবল হেলথ-এর প্রধান নির্বাহী ইমান আবুযেইদ জানান, তাদের এআই টুল কাউকে বাদ দেওয়ার জন্য নয়, বরং যোগ্য নার্সদের খুঁজে পেতে সহায়তা করে এবং তাদের ১০ শতাংশ ইন্টারভিউ মানুষের মাধ্যমে নিরীক্ষা (অডিট) করা হয়।

আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে ২০২৩ সাল থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে একটি আইন চালু হয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহারের আগে প্রার্থীদের জানানো এবং বার্ষিক পক্ষপাত অডিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইলিনয় এবং কলোরাডোতেও বৈষম্যমূলক এআই টুলের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। আউটেন অ্যান্ড গোল্ডেন ল ফার্মের অংশীদার জেনি ইয়াং বলেন, "প্রাথমিক এই স্বচ্ছতা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। তবে কর্মীরা কেন সুযোগ পাচ্ছেন না, তা বুঝতে না পেরে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।"

শিরোনাম :
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরকারের বড় সামরিক অভিযান ঘোষণা, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য বাকেরগঞ্জে মিলাদের মঞ্চেই নাচ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ইলদিজ যেন কভারাতসখেলিয়া, ভ্লাহোভিচ নিজেই নিজের সমস্যা তৈরি করেন: স্পালেত্তি ২০২৬ সালে টিজে ম্যাক্সের কয়েকটি শাখা বন্ধ হলেও খুলছে আরও অনেক নতুন স্টোর ব্রাজিলের নির্বাচনে বলসোনারোর জয় ট্রাম্পের আধিপত্যের নতুন ধাপ হতে পারে ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, মুখোমুখি লড়াইয়ে লুলা ও বলসোনারো নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ভাবনায় মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপ এফবিআই ওয়েবসাইট হ্যাক: জর্ডানে শাইনিহান্টার্সের সন্দেহভাজন সদস্য আটক গ্রিসের সঙ্গে কয়েক দশকের আলোচনা শেষে বুলগেরিয়ায় ফিরল জার স্যামুয়েলের অবশেষ কুমিল্লার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরকারের বড় সামরিক অভিযান ঘোষণা, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য বাকেরগঞ্জে মিলাদের মঞ্চেই নাচ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ইলদিজ যেন কভারাতসখেলিয়া, ভ্লাহোভিচ নিজেই নিজের সমস্যা তৈরি করেন: স্পালেত্তি ২০২৬ সালে টিজে ম্যাক্সের কয়েকটি শাখা বন্ধ হলেও খুলছে আরও অনেক নতুন স্টোর ব্রাজিলের নির্বাচনে বলসোনারোর জয় ট্রাম্পের আধিপত্যের নতুন ধাপ হতে পারে ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, মুখোমুখি লড়াইয়ে লুলা ও বলসোনারো নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ভাবনায় মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপ এফবিআই ওয়েবসাইট হ্যাক: জর্ডানে শাইনিহান্টার্সের সন্দেহভাজন সদস্য আটক গ্রিসের সঙ্গে কয়েক দশকের আলোচনা শেষে বুলগেরিয়ায় ফিরল জার স্যামুয়েলের অবশেষ কুমিল্লার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী