বিশ্বজুড়ে সংকটে পড়া ও বঞ্চিত মানুষের পাশে তুরস্ক সবসময় থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। বিশেষ করে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নিপীড়িত জনগণের জন্য তুরস্ক আশার আলো হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখবে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন। বুধবার বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এরদোয়ান এই মন্তব্য করেন।
তুর্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এনসোশ্যাল' (NSosyal)-এ দেওয়া এক পোস্টে এরদোয়ান বলেন, "আজ বিশ্ব মানবিক দিবস। আমাদের ইতিহাস এবং প্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধ থেকে শক্তি নিয়ে আমরা এই মানবিক ইস্যুতে সবার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছি, যা রাজনীতির ঊর্ধ্বে। জাতীয় আয়ের অনুপাতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানবিক সহায়তা প্রদানকারী দেশ হিসেবে তুরস্ক তার অবস্থান ধরে রেখেছে।"
বিশ্বের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত এবং বেঁচে থাকার জন্য চরম লড়াই করছেন। এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য দায়িত্ব নেওয়ার একটি আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, "নিপীড়িত, এতিম, অসহায় ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যাদের কেউ নেই তাদের সাহায্য করা আমাদের ধর্মের একটি নির্দেশ।"
গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটের মধ্যে এরদোয়ানের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৪০৭ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১,৭৪,৩৩৫ জন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১,২৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,২২৩ জন আহত হয়েছেন।
এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন, যেখানেই কোনো অভাবী মানুষ থাকবে, সেখানেই তুরস্ক তার সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এবং গাজাসহ বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবে।

