ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এক সর্বসম্মত রায়ে দেশটির নারী সুরক্ষা আইনের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে। এতদিন এই আইনটি মূলত পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, তবে এখন থেকে বাড়ির বাইরেও বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। আদালতের ১০ জন সদস্যই এই রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পারিবারিক বা আবেগীয় সম্পর্ক না থাকলেও বিচার করা সম্ভব হবে। মারিয়া দা পেনহা (Maria da Penha) আইনের আওতায় এখন থেকে বাড়ির বাইরেও ধাওয়া, হুমকি এবং হয়রানির মতো ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ব্রাজিল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মারিয়া দা পেনহা আইনের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭০ শতাংশ বেশি।
আদালতের একমাত্র নারী বিচারপতি কারমেন লুসিয়া (Carmen Lúcia) মন্তব্য করেছেন যে, ২০০৬ সালে আইনটি প্রণীত হলেও ব্রাজিলে নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি। তিনি আরও বলেন, এই আইনটি হালনাগাদ করা জরুরি ছিল, কারণ নারীরা বাড়ির বাইরেও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে পুলিশে অভিযোগ জানানো হলেও তা গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না।
বিচারপতি লুসিয়া আদালতের রায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বাস্তব জীবনে বিচারকরা প্রায়ই কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পুরুষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন, তারা বলেন এটি জরুরি নয় এবং পরবর্তী সোমবারের জন্য ফেলে রাখেন। এরই মধ্যে আমাদের একজন মারা যান। এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ করেছে যে, নারীদের বিরুদ্ধে যা কিছু ঘটছে, তা দেখে আদালত অন্ধ বা বধির নয়।”

