জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তুলসী গ্যাবার্ড তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামসের ক্যানসার নির্ণয়ের পর চলতি বছরের শুরুর দিকে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। সম্প্রতি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, তার স্বামীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
ভিডিওতে গ্যাবার্ড জানান, আব্রাহাম উইলিয়ামস পিঠের ব্যথায় ভুগছিলেন। এরপর চিকিৎসকরা তার টেইলবোনে বা হাড়ের গোড়ায় 'স্যাক্রাল কর্ডোমা' নামক এক বিরল ধরনের টিউমার শনাক্ত করেন। গ্যাবার্ড বলেন, আব্রাহামের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। ক্যানসারটি একই স্থানে বা শরীরের অন্য কোথাও ফিরে আসছে কি না, তা জানতে তাকে নিয়মিত এমআরআই করাতে হবে।
টিউমার অপসারণের জন্য আট ঘণ্টা দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের কয়েক সপ্তাহ পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে, তারা ক্যানসার আক্রান্ত সব হাড় ও টিস্যু অপসারণ করতে পেরেছেন। গ্যাবার্ড জানান, অস্ত্রোপচারের পর প্রায় তিন মাস ধরে আব্রাহাম কঠোর শারীরিক থেরাপি নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আব্রাহাম দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে চান, তাই মাঝে মাঝে তিনি নিজেই নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন, যা তাকে হতাশ করে তোলে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে তুলসী গ্যাবার্ড ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ৩০ জুন থেকে জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তার এই সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে বিতর্কিত আবাসন কর্মকর্তা বিল পাল্টকে তার স্থলাভিষিক্ত করার ঘোষণা দেন। এতে ক্যাপিটল হিলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা পাল্টের নাম প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানান। এই বিরোধের জেরে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত জে ক্লেটনকে স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মনোনীত করেন, যিনি পরবর্তীতে সিনেটে নিশ্চিত হন।
গ্যাবার্ডের অধীনে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ৪০ শতাংশ কর্মী কমানো বা পুনঃনিয়োগ করা হয়েছিল এবং বেশ কিছু অফিস ও বিশ্লেষণমূলক কাজ 'ওডিএনআই ২.০' উদ্যোগের অধীনে একীভূত করা হয়েছিল। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো সংস্থার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর জন্য করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে এবং সিআইএ-র মতো স্বতন্ত্র সংস্থাগুলোর দিকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছে।

