নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা 'তেলাপোকা জনতা পার্টি' বা সিজেপি-র আন্দোলন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের সূচনা করেছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তারা জানিয়েছে, পরীক্ষার ন্যায়বিচারের জন্য এই আন্দোলন আরও বেশি শক্তি দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রতিদিন হাজারো ছাত্র-যুব অংশ নিচ্ছেন এবং ভিড় বাড়ছে। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, বুধবার সকালে পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তারা তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের স্পষ্ট অবস্থান, কোনো মন্ত্রী বা নেতার বাড়িতে বা অফিসে তারা যাচ্ছেন না; এখানে একটি ‘জনতা দরবার’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং মন্ত্রীরা যদি কথা বলতে চান, তবে তাদের জনগণের কাছে যন্তর মন্তরেই আসতে হবে।
এই আন্দোলনে এখন বিরোধী দলগুলোও সক্রিয়ভাবে শামিল হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনা কর্মসূচিতে কংগ্রেসের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি ও উদ্ভব শিবসেনার মতো দলগুলোও অংশ নেয়। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিষয়ে আলোচনার নোটিশ দিয়েছেন। এদিকে, রাজ্যসভার উত্তপ্ত অধিবেশনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া নিট নিয়ে কোনো বিতর্কে তারা অংশ নেবেন না।
রাহুল গান্ধী এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত এক দশকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একজনেরও দণ্ড হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, কিছু মানুষ রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের ছাত্র-যুবদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন, যা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর আচরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিজেপি তাকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। ওয়াংচুক নিজেও সংসদ চলো কর্মসূচিতে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির শর্তে অনশন ভাঙার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আন্দোলনের আঁচ এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে নিউ ইয়র্ক, লন্ডন ও ডাবলিনের মতো শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামে একটি এডভোকেসি গ্রুপ নিউ ইয়র্কের ইউনিয়ন স্কোয়্যার এবং সান হোসে শহরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

