পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগোয় দুই ফরাসি তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীকে কারাবন্দি করা হয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় হেফাজতে রাখার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)।
আরএসএফ জানায়, আটককৃতরা হলেন ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা গায়েল মোকায়ের, সেবাস্তিয়ান পেরেজ পেজ্জানি এবং তাদের টোগোলিজ সহযোগী (ফিক্সার) ফ্রেড ভেদোমি। গত সোমবার তাদের প্রাক-বিচার আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় "মিথ্যা ঘোষণা" দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্যারিসভিত্তিক সংস্থা আরএসএফ অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
গত ২৭ জুলাই উত্তর টোগোর কারা অঞ্চল থেকে পুলিশ এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় তারা ফরাসি একটি সরকারি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের জন্য একটি তথ্যচিত্রের পর্ব শুটিং করছিলেন। উল্লেখ্য, উত্তর টোগো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় জর্জরিত।
এই আটকের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ফ্রান্সের সঙ্গে টোগো সরকারের সম্পর্ক বেশ শীতল এবং দেশটি ক্রমান্বয়ে রাশিয়া, মালি, বুর্কিনা ফাসো ও নাইজারের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। শেষোক্ত তিনটি সামরিক শাসিত দেশ ফরাসি বাহিনীকে তাদের মাটি থেকে বহিষ্কার করেছে এবং মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। গত বছর রাশিয়া ও টোগো একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার অধীনে যৌথ মহড়া ও সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
পাশাপাশি, টোগো ফরাসি গণমাধ্যমের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ২০২৫ সালের জুনে দেশটির নেতা ফরে নাসিংবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে ফরাসি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল (আরএফআই) এবং ফ্রান্স ২৪-এর সম্প্রচার তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল টোগো কর্তৃপক্ষ।
আরএসএফ-এর দাবি, আটক হওয়া চলচ্চিত্র নির্মাতারা কাজের ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং টোগোর পর্যটন, সংস্কৃতি ও শিল্পকলা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে সংস্কৃতিমন্ত্রী আইজ্যাক চিয়াকপে আরএসএফ-এর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, তাদের কাছে যদি সঠিক অনুমতি থাকত এবং তারা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেন, তবে তাদের আটক করা হতো না।
টোগোর গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএআরসি জানিয়েছে, তারা এই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বা ফ্রান্স টেলিভিশনের কাছ থেকে কোনো অ্যাক্রেডিটেশন বা অনুমোদনের অনুরোধ পায়নি এবং উত্তর টোগোয় তাদের চিত্রগ্রহণের বিষয়েও তাদের কিছু জানানো হয়নি।
আরএসএফ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের চিত্রগ্রহণের সরঞ্জাম জব্দ করে। গত ৩০ জুলাই তাদের সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হলেও পরে আবার গ্রেপ্তার করে রাজধানী লোমেতে স্থানান্তর করা হয়। আরএসএফ এই আইনি প্রক্রিয়াকে অন্যায় এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, পেরেজ পেজ্জানি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং তার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।

