সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে সম্প্রতি ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক ও আরও ১১টি দেশ। এই দেশগুলো সম্মিলিতভাবে এই হামলাকে এক চরম উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, লেবানন, মালয়েশিয়া, মৌরিতানিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব এবং সোমালিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই নিন্দা জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের হামলা সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক ঐক্যের পরিপন্থী।
সিরিয়ার ভূখণ্ড ও অবকাঠামোতে অব্যাহত লক্ষ্যবস্তু ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রীরা। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার, জাতীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর ইসরায়েলের এই ধরনের লঙ্ঘন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের মূলনীতিগুলোর প্রতি সম্মানকেও ক্ষুণ্ণ করছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সিরিয়ার ওপর অব্যাহত হামলার বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় ও নীতিগত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্ত্রীরা ১৯৭৪ সালের ডিসএঙ্গেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট বা বিচ্ছেদ চুক্তির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে ইসরায়েলি বাহিনীকে দখলকৃত এলাকা থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এসব বিষয় ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

