পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাইতেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’কে একই কাতারে নিয়ে এসে তিনি ঘোষণা দেন, এ বিষয়ে তাঁর সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না।
শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকা ভবানীপুরে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় শুভেন্দু অধিকারী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলায় থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে এই মুখ্যমন্ত্রী কোনো আপস করবেন না।’
বক্তব্যে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি এবং রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া এবং স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের বিরোধিতা করছে ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ এবং ‘জিহাদি’ শক্তি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশবিরোধী শক্তির সমর্থনে গণমাধ্যমের একটি অংশ যা-ই লিখুক না কেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য হলো শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। তাঁর মতে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ‘সনাতন’ সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
বক্তব্যের শেষ অংশে বাম দলগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বাম নেতাদের ‘লাল বাবু’ বলে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।

