জাপানের রাজধানী টোকিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উদীয়মান প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষ স্ট্র্যাটকম (STRATCOM) গোলটেবিল বৈঠক ও পাবলিক ফোরামের আয়োজন করেছে তুরস্ক। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর এবং টোকিওস্থ তুর্কি দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সম্মেলনে মূলত দুটি প্রধান বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল "উদীয়মান প্রযুক্তির যুগে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শৃঙ্খলা" এবং পাবলিক ফোরামের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল "ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার যুগে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা"। আলোচনায় বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব, তথ্য নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
অনুষ্ঠানে তুরস্কের যোগাযোগ পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান সতর্ক করে বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক পরিবর্তনগুলো বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নতুন রূপ দিচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে ভুল তথ্য বা প্রোপাগান্ডা এবং মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে, যা নতুন ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, আজ আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যাকে একই সঙ্গে সত্যের সংকট ও যোগাযোগের সংকট হিসেবে অভিহিত করা যায়। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অভিন্ন নীতিমালার ওপর জোর দেন।
টোকিওতে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত ওগুজান এরতুগরুল জানান, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় তুরস্ক ও জাপান যৌথভাবে অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে, উপ-যোগাযোগ পরিচালক ফেরহাত পিরিনচ্চি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পাবলিক ডিপ্লোমেসিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও জনবিশ্বাসের ওপর অপপ্রচারের (ডিসইনফরমেশন) ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন। এছাড়া, তুরস্কের একে পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান ওমর ইলেরি বলেন, বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর একই সঙ্গে ঘটছে, যেখানে বাজার একচেটিয়াকরণ, দেশীয় উৎপাদন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ধরন বদলে দিচ্ছে।
সম্মেলনে জাপানি বিশেষজ্ঞরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ আকিরা ইগাতা খনিজ সরবরাহ চেইন ও ডাটা সেন্টার অবকাঠামো নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক কাজুতো সুজুকি ভূ-অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় কৌশলগত খনিজ ও প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে, কানন ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল স্টাডিজের কুনিহিকো মিয়াকে বলেন, সফল কৌশলগত যোগাযোগের জন্য কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং একটি সুস্পষ্ট কৌশল ও শক্তিশালী ন্যারেটিভের প্রয়োজন।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল কৌশলগত ও সংকটকালীন যোগাযোগের ক্ষেত্রে তুরস্ক ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে আয়োজিত এই স্ট্র্যাটকম সম্মেলনটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পরামর্শ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে আসছে।

