দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মোদির বার্তা, প্রশ্নফাঁস নিয়ে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে আয়োজিত ধরনা কর্মসূচিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও যুবকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষও শিক্ষার্থীদের এই জমায়েতে সংহতি প্রকাশ করেছেন। বুধবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তাদের আন্দোলনের ৩৪তম দিন চলছে। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সোনম ওয়াংচুককে তার অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন, যার ২৬তম দিন পার হচ্ছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই ঘটনার বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্স পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল। সঙ্ঘের মতে, নিট ও সিবিএসই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই সরকারের উচিত ছিল তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। তবে আরএসএস শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।