ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-রাম শহরের কাছে বিভাজন প্রাচীর দিয়ে প্রবেশ করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। মূলত শ্রমিকরা প্রতিদিন বিভাজন প্রাচীর ও ইসরায়েল-পশ্চিম তীর সীমানা দিয়ে চলাচলের সময় এ ধরনের হামলার শিকার হন। গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের কাজে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই এই প্রাচীর টপকানোর চেষ্টা করছেন।
পৃথক ঘটনায়, জেনিনের দক্ষিণে আররাবা শহরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা দুজন তরুণ ফিলিস্তিনিকে মারধর করলে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। একই শহরের উপকণ্ঠে বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আরও দুজন ফিলিস্তিনি টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া, উত্তর তুবাস প্রদেশের তাম্মুন শহরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে বসতি স্থাপনকারীরা গুরুতর মারধর করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দক্ষিণ হেবরন প্রদেশের মাসাফের ইয়াট্টার আল-রাকিজ গ্রামে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় সাঈদ আল-আমুর নামের এক বৃদ্ধ আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে।
তুবাস ও তায়াসির শহরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় টিয়ার গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া ১১ জন ফিলিস্তিনিকে রেড ক্রিসেন্ট চিকিৎসা দিয়েছে, যার মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। এছাড়া বেথলেহেমের দক্ষিণে বেইত ফাজ্জার, আল-বিরেহ শহর এবং রামাল্লাহর উত্তরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামেও ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়েছে, তবে সেখানে কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, বসতি স্থাপনকারীদের জন্য আলাদা রাস্তা নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

