জাপানের আইনপ্রণেতাদের একটি আন্তঃদলীয় প্রতিনিধিদল সোমবার বেইজিংয়ে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির তাইওয়ান সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের লক্ষ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও কল্যাণ উপমন্ত্রী গাকু হাশিমোতো। এছাড়া কোমেইতো এবং সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স (সিআরএ) বিরোধী দলের একজন করে প্রতিনিধিও এই দলে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই সফর চলাকালীন তারা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন।
টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর ছাড়ার আগে সিআরএ পার্টির মুখপাত্র শিনিচি ইসা সাংবাদিকদের বলেন, সব ক্ষেত্রেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে সংলাপ পুনরায় শুরুর কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন যে, চীনের কোনো আক্রমণ তাইওয়ানের জন্য হুমকি হলে জাপান শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে পারে। এই মন্তব্য বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে। অতীতে জাপানের চীনা দূতাবাসে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিনিচি ইসা এ মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন যে, ১৯৭২ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সব ধরনের টানাপোড়েনের সময়েও সরকারি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যোগাযোগ বজায় ছিল, কিন্তু এখন সব চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে।
ইসার মতে, এই পরিস্থিতি কোনো পক্ষেরই জাতীয় স্বার্থে নয়। এ কারণে চীনা পক্ষ জাপানি আইনপ্রণেতাদের অনুরোধে সংলাপের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে রাজি হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, জাপানের শাসক ও বিরোধী দলের কিছু নীতিবান ব্যক্তি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাপানি সরকার যেন এই কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বিনিময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে চীন নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং এ বিষয়ে যেকোনো মন্তব্যকে বেইজিং তাদের সম্পর্কের 'রেড লাইন' বা স্পর্শকাতর সীমা হিসেবে গণ্য করে। যদিও তাকাইচি তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি, তবে ১৫ আগস্ট জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মসমর্পণের বার্ষিকীতে তিনি বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে দূর থেকে প্রার্থনা করেছেন। এই মন্দিরটিকে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া জাপানের যুদ্ধকালীন সামরিকবাদ ও নৃশংসতার প্রতীক হিসেবে মনে করে।

