কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় তোলিমা প্রদেশে চলতি মাসে ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর (৭৪,১৩১ একর) বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, এই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির পেছনে কোনো অপরাধী চক্রের হাত থাকতে পারে। প্রদেশের গভর্নর আদ্রিয়ানা মাতিজ জানিয়েছেন, কিছু দাবানল ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে বলে তাদের কাছে "গুরুতর সূত্র" রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে গভর্নর মাতিজ জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে মোটরসাইকেলে চড়ে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া একটি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া প্রতিবেদনেও একটি অগ্নিকাণ্ডে পেট্রল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গভর্নর ধারণা করছেন, তোলিমার একটি কৌশলগত এলাকা যেখানে অবৈধ সোনার খনি থেকে অপরাধী চক্রগুলো বিপুল অর্থ উপার্জন করে থাকে, সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর সরিয়ে রাখতেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই দাবানল সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কিছু আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চিলির সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও জানান।
তোলিমার পরিবেশ সংস্থা 'করতোলিমা' (Cortolima) জানিয়েছে, চলতি মাসে তোলিমায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি ছিল, যা কিছু এলাকায় গড় তাপমাত্রার চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম ছিল। তোলিমা ছাড়াও কলম্বিয়ার কুন্দিনামার্কা, ভালে দেল কাউকা, নারিনো এবং বোয়াকা প্রদেশেও এ মাসে দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।
দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তোলিমা অঞ্চল। আঞ্চলিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে সেখানে ৫০টি ঘরবাড়ি এবং প্রায় ৮,০০০ হেক্টর কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিতে গিয়ে গভর্নর মাতিজ বলেন, "অনেকে তাদের সম্পূর্ণ ভুট্টার ফসল বা লেবু বাগান হারিয়েছেন। অনেকের গবাদি পশুকে খাওয়ানোর মতো কোনো উপায় নেই। আমরা একটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি এবং আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।"

