গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ঘোষণা দেওয়ার সময় বলেছিলেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই যুদ্ধ ছয় মাস অতিক্রান্ত করেছে। বর্তমানে এই সংঘাত সরাসরি যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে এসে হরমুজ প্রণালী ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে, যে জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
গত ২৫ আগস্ট হোয়াইট হাউস ইরান ও এর মিত্রদের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তারা নাকচ করেনি। এই যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সারের দাম ও পরিবহন খরচ বাড়ায় খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট সামুদ্রিক সার বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার মধ্যে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাইট্রোজেন সার রয়েছে। এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী কৃষিখাত ও খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের বাজারেও যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ২০ জুলাই লোহিত সাগরে অবরোধের ঘোষণা দেয়। তারা বাব আল-মানদেব প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট। ২৩ জুলাই হুতিরা সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছে যায়। বাব আল-মানদেব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও হুতিদের হুমকির মুখে রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিমান শিল্পেও। যুদ্ধের প্রাথমিক সপ্তাহগুলোতেই জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যায়, যা এয়ারলাইন্সগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।
সবশেষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা সূচক আগস্ট মাসে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর পেছনে ইরান যুদ্ধ এবং গ্যালনপ্রতি তেলের দাম ৪ ডলারের ওপরে থাকা অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক মনোভাব ও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
