কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগামী মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এক উচ্চপর্যায়ের সফরে ভাষণ দেবেন। এই সফরটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের সাথে সম্পর্ক গভীর করার দেশটির কৌশলগত প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে।
কার্নির কার্যালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' ভাষণেও অংশ নেবেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তার বার্ষিক ভাষণটি প্রদান করবেন। কার্নি সেখানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং পরের দিনই তিনি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন, এই সফরটি ইইউ-কানাডা সম্পর্ক গভীর করার এবং তাদের বন্ধন আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক দিন পরই এই সফরের খবর সামনে এল। ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যার মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এর জবাবে অটোয়াও পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
কানাডার অর্থনীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনার কৌশলের কেন্দ্রে এখন ইউরোপ। প্রধানমন্ত্রী কার্নি এর আগেও বিভিন্ন সময় মত দিয়েছেন যে, বৃহৎ শক্তির অনুগ্রহ লাভের প্রতিযোগিতায় না গিয়ে মাঝারি শক্তিধর দেশগুলোর একে অপরের সাথে কাজ করা উচিত। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি অন্তত ১২ বার ইউরোপ সফর করেছেন।
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে কানাডা ইউরোপের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। চলতি বছর কানাডা প্রথম অ-ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ইইউ-এর 'সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ' উদ্যোগে প্রবেশ করেছে। কানাডার অর্থনীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে সরিয়ে আনতে কার্নি আগামী দশকে কানাডার অ-মার্কিন রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ব্যাংক অব কানাডা এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড—উভয়ের সাবেক গভর্নর হিসেবে ইউরোপের সাথে কার্নির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

