মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় চলমান ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়া হবে এই অঞ্চলের জন্য একটি 'অপরিবর্তনীয়' বা 'পয়েন্ট অব নো রিটার্ন' মুহূর্ত।
বোর্ড অব পিস গত মাসে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের জন্য ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল, যা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাস অস্ত্র সমর্পণের বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মত হলেও, ইসরায়েল দাবি করে আসছে যে সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৩০৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০০ জন শিশু। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ম্লাদেনভ নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার সর্বশেষ বৈঠকে অবশিষ্ট প্রশ্নগুলো সমাধানের জন্য একটি প্রক্রিয়া এবং কমিটি গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, 'যে যুদ্ধবিরতিতে বেসামরিক মানুষ এখনো মারা যাচ্ছে, তাকে গাজার মানুষ প্রকৃত যুদ্ধবিরতি বলে মনে করতে পারে না।'
একই সাথে তিনি হামাসের সমালোচনা করে বলেন, গোষ্ঠীটি এখনো তাদের সমস্ত সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিটি অস্ত্র বহন, টানেলের কাজ এবং ত্রাণ বহরে বাধা দেওয়া শান্তি প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দিচ্ছে এবং যুদ্ধের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
ম্লাদেনভ পুনরায় উল্লেখ করেন যে, বোর্ড অব পিসের নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিগত কমিটির কাছে হস্তান্তরের পর ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এটি একটি ধারাবাহিক ও পারস্পরিক প্রক্রিয়া। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনারের বক্তব্যের সাথে ভিন্ন, যিনি বলেছিলেন যে নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনা করা হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিনিধি জানান, তারা যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে হামাসের সামরিক অবকাঠামো বিদ্যমান থাকা অবস্থায় এটি সফল হওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের সুরক্ষার দাবি জানান।
ম্লাদেনভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, তবে পুনর্গঠন বা প্রশাসনের জন্য আর কোনো রোডম্যাপ থাকবে না। এটি কেবল সাময়িক বিপর্যয় নয়, বরং সবার জন্য এক অপরিবর্তনীয় পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যেখানে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হন। এরপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

