ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, কিয়েভ সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি খাতে চলমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। টেলিগ্রাম বার্তায় মন্ত্রণালয়টি উল্লেখ করেছে, কিয়েভ শাসিত বাহিনীর চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার এই সামরিক প্রস্তুতি।
গত শীতকালে রাশিয়া বারবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত করেছিল, যার ফলে দেশটির জ্বালানি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় লাখ লাখ মানুষ হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় বিদ্যুৎ ও তাপবিহীন অবস্থায় অন্ধকারে থাকতে বাধ্য হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। এতে বন্দর সুবিধা, তেল স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদামসহ বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে।
রোববার রুশ সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা কিয়েভে অ্যাসবেস্টস ও সিমেন্ট উৎপাদনকারী একটি কারখানায় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ভাষ্যমতে, ওই কারখানার গুদামগুলো বিস্ফোরক দ্রব্য সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতো। একই সঙ্গে তারা ড্রোন ও গোলাবারুদ প্রস্তুতকারী একটি কারখানাতেও আঘাত করার দাবি করেছে।
এর আগে শনিবার কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি গোলাবারুদ ডিপোতে রাশিয়ার হামলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

