মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী জলভাগ 'লেক অন্টারিও'-এর নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই আদেশে স্বরাষ্ট্র বিভাগ এবং ইউ.এস. বোর্ড অন জিওগ্রাফিক নেমসকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি গত বছর মেক্সিকো উপসাগরকে 'গালফ অফ আমেরিকা'য় রূপান্তরের চেষ্টার সাথে তুলনীয়।
মানচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই নতুন নামকরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। গুগল ম্যাপস ২৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' করেছে। গুগল তাদের নিউজ ব্লগে জানিয়েছে, সরকারি সূত্রের নাম পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই তারা এই আপডেট দিয়েছে। তবে কানাডার ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এখনো 'লেক অন্টারিও' নামটিই প্রদর্শন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাইরের ব্যবহারকারীরা মানচিত্রে উভয় নামই দেখতে পাবেন বলে গুগল নিশ্চিত করেছে।
অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোর অবস্থান ভিন্ন। অ্যাপল ম্যাপস ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তাদের মানচিত্রে 'লেক অন্টারিও' নামই ব্যবহার করছে। এর আগে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ট্রাম্প যখন মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন, তখন অ্যাপল ম্যাপস সেই পরিবর্তন গ্রহণ করেছিল। তবে এবার তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
ম্যাপকোয়েস্ট জানিয়েছে, তারা এই নাম পরিবর্তনের সাথে একমত নয়। ২৭ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা এই নাম পরিবর্তন করছে না। ম্যাপকোয়েস্ট বরং ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী লেকের নাম দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে একটি নতুন ম্যাপ জেনারেটর চালু করেছে। ৩০ আগস্টের এক পোস্টে তারা পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, তাদের প্ল্যাটফর্মে লেক অন্টারিও নামটিই বহাল রয়েছে।
ইউএসএ টুডে অ্যাপল ম্যাপস এবং ওয়েজ-এর কাছে এই বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করেছে, তবে তারা এখনো কোনো সাড়া দেয়নি।

