জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা মঙ্গলবার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাজধানী লুসাকার ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। জাম্বিয়ার নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হিচিলেমা প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার এই দেশটি মূলত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পরিচিত।
তবে এবারের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হিচিলেমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্দুবিল প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই শপথ অনুষ্ঠানে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো, বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট দুমা বোকো এবং জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াসহ বেশ কয়েকজন আফ্রিকান নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে হিচিলেমা বলেন, যারা বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বরও শোনা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আপনাদের সমর্থন গ্রহণ করছি। যারা অন্য প্রার্থী বা দলকে সমর্থন করেছেন, তাদের প্রতিও আমরা সমান আন্তরিকতার সাথে বলতে চাই, আমরা আপনাদের কথাও শুনেছি।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্দুবিল এবং তার রানিং মেট তাকেবু জুলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্য জাম্বিয়ার মুকোবেকো ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি প্রিজনে রাখা হয়েছে। মুন্দুবিল জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর তার বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর তিনি জীবনভয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর জাতিসংঘের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পর ২৪ আগস্ট তিনি ও জুলু পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এছাড়া নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের জন্য আদালতগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

