ড্যালাস কাউবয়স তাদের কোয়ার্টারব্যাক জো মিল্টনকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনএফএল তারকা চ্যাড ওচোচিনকো। সোমবার কাউবয়স কর্তৃপক্ষ মিল্টনকে ছেড়ে দিয়ে স্যাম হাওয়েলকে ড্যাক প্রেসকটের প্রধান ব্যাকআপ হিসেবে দলে রেখে দেয়। অথচ আগস্ট মাস জুড়ে হাওয়েলের চেয়ে মিল্টনের পারফরম্যান্স ছিল অনেক বেশি উজ্জ্বল। তিনটি ম্যাচে মিল্টন ৪৩টি পাসের মধ্যে ২৯টি সফলভাবে সম্পন্ন করে ৩৭৮ গজ পার করেন, যার মধ্যে তিনটি পাসিং টাচডাউন এবং একটি রাশিং টাচডাউন ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, প্রিসিজনের এই ম্যাচগুলোতে তার কোনো ইন্টারসেপশন ছিল না।
কাউবয়সের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে সোমবার "নাইটক্যাপ" পডকাস্টে অংশ নিয়ে ছয়বারের প্রো বোল ওয়াইড রিসিভার চ্যাড ওচোচিনকো বলেন, "আমি এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। খবরটি শুনেই আমার মাথায় প্রথম যে চিন্তাটি এসেছে তা হলো— আমরা এমন কোনো কোয়ার্টারব্যাককে সক্রিয় দলে রাখতে পারি না যে এত ভালো খেলেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি মনে করি না যে কাউবয়স এমন কোনো পরিস্থিতিতে পড়বে যেখানে সবকিছু ভেঙে পড়বে। এই ধরনের অস্ত্র বা খেলোয়াড়দের নিয়ে এমনটা ঘটার কথা নয়। কিন্তু জো মিল্টনের এত চমৎকার পারফরম্যান্সের পরেও তারা যেভাবে মিল্টনের চেয়ে স্যাম হাওয়েলকে বেছে নিল, তা সত্যিই হতাশাজনক। সাধারণ অর্থে এটি একটি নোংরা ব্যবসা।"
ড্যালাসে আসার আগে মিল্টন তার রুকি মৌসুম কাটিয়েছিলেন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের সাথে। জানা গেছে, কানসাস সিটি চিফস থেকে রানিং ব্যাক ইমারি ডেমারকাডোকে দলে ভেড়ানোর জন্যই কাউবয়স মিল্টনকে ছেড়ে দিয়েছে। কাউবয়সের সাথে মিল্টনের পথচলা মাত্র এক বছর স্থায়ী হলো, কারণ ফ্রন্ট অফিস মিল্টনের চেয়ে হাওয়েলের অভিজ্ঞতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। হাওয়েলের এনএফএল ক্যারিয়ারে ১৮টি ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৩ সালে তিনি ৩,৯৪৬ পাসিং ইয়ার্ড এবং ২১টি টাচডাউন অর্জন করেছিলেন।
কাউবয়স থেকে বাদ পড়ার পর জো মিল্টনের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কোয়ার্টারব্যাক পজিশনে বেশ কিছু পরিবর্তনের পর মায়ামি ডলফিনস মিল্টনের জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। মায়ামি কুইন ইউয়ার্সকে ট্রেড করে কাইল ম্যাককর্ডকে দলে নিলেও মালিক উইলিসের ব্যাকআপ হিসেবে তাদের আরও গভীরতার প্রয়োজন। মিল্টনের শক্তিশালী হাত এবং দৌড়ানোর ক্ষমতা মাইক ম্যাকড্যানিয়েলের আক্রমণভাগের কৌশলের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যেতে পারে।
এছাড়া নিউ ইয়র্ক জেটসও তার জন্য আরেকটি বিকল্প হতে পারে। সেখানে রুকি কেড ক্লুবনিক প্রধান ব্যাকআপ হিসেবে থাকায় জেটস একজন অভিজ্ঞ কোয়ার্টারব্যাক খুঁজছে। মিল্টনের প্রিসিজনের পারফরম্যান্স (৩৭৮ গজ, ৩টি টাচডাউন, কোনো ইন্টারসেপশন নেই) তাদের আকৃষ্ট করতে পারে। অন্যদিকে, মাইকেল পেনিক্স জুনিয়র ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় আটলান্টা ফ্যালকনসও দলে গভীরতা বাড়াতে মিল্টনকে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। পাশাপাশি ডিলন গ্যাব্রিয়েল ইনজুরিতে থাকায় এবং শেডুর স্যান্ডার্সের জটিল পরিস্থিতির কারণে ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনসও তাদের কোয়ার্টারব্যাক ব্যাকআপ হিসেবে জো মিল্টনকে দলে ভেড়াতে পারে।

