ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতায় নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক মিসাইল যুক্ত করেছে, যা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই মিসাইলটির নাম খাইবার শেকান, যা 'ক্যাসেল ব্রেকার' বা দুর্গ ধ্বংসকারী নামে পরিচিত। প্রায় ৯০০ মাইল পাল্লার এই মিসাইলটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এবং এর ওয়ারহেড লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়ে দিক পরিবর্তন করতে পারে।
ইরানের সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন অস্ত্র বিশ্লেষকদের মতে, ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরান বাহরাইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নৌ ও সামরিক ঘাঁটিতে এই মিসাইল ব্যবহার করেছে। গত ১৭ জুলাই জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে হামলায় এই মিসাইল ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যে ঘটনায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। ৩১ আগস্ট ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে তারা জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি ও কিং হোসেন বিমান ঘাঁটিতে খাইবার শেকান মিসাইল দিয়ে আঘাত হেনেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় ঘাঁটির প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান রাখার স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
প্রথাগত ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো খাইবার শেকান নির্দিষ্ট পথে চলে না; বরং এটি তার যাত্রাপথের শেষ পর্যায়ে দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করার আগেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই কঠিন জ্বালানির মিসাইলটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। আল-উদিদ (কাতার), প্রিন্স সুলতান (সৌদি আরব) এবং আল-দাফরা (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্থাপনাগুলো এখন এই মিসাইলের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েছে।
মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক জোনাথন হ্যাকেট এবং অবসরপ্রাপ্ত চার তারকা জেনারেল ব্যারি ম্যাকক্যাফ্রে জানিয়েছেন, ইরান যেভাবে তাদের মিসাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়েছে, তাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ম্যাকক্যাফ্রের মতে, ইরান অন্তত ১৫টি মার্কিন ঘাঁটি থেকে স্থায়ীভাবে সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেলে দিয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ২২৮টির বেশি অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার সুরক্ষিত। তবে সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, ইরান চীন ও রাশিয়ার প্রযুক্তির সহায়তায় এই মিসাইলের কার্যকারিতা বাড়িয়েছে এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগাচ্ছে। জর্ডানের ঘাঁটিতে ১৭ জুলাইয়ের হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস, ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাদ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেনটাগনের স্বচ্ছতার অভাব সত্ত্বেও এই মিসাইলের ভয়াবহতা এখন অনস্বীকার্য।

