কাতার, মিশর এবং জর্ডান তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
মিশর বুধবার এই হামলাকে সংশ্লিষ্ট আরব রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। কায়রো এই ঘটনাকে একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি। মিশর কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো হামলার কঠোর বিরোধিতা করেছে। মিশরের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার একটি চক্র তৈরি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে কাতার। দোহা জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের ওপর চালানো হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য ইরানকে আইনগতভাবে পুরোপুরি দায়ী করেছে। কাতার সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের হামলা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে পারে। দোহা সব পক্ষকে সংঘাত বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
জর্ডানও বাহরাইন ও কুয়েতের ওপর ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। আম্মান বাহরাইন ও কুয়েতের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিলে জর্ডান তার পাশে থাকবে।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে যে, তারা কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা বেশ কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আগের দিন ইরানে বেসামরিক এলাকায় মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল যে, তারা ইরানের ভেতরে আইআরজিসি (IRGC)-র লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এরপরই ইরানের গণমাধ্যমে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার এবং কোনারকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

