জার্মানি বুধবার জানিয়েছে যে তারা রাশিয়ার সাথে উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে প্রস্তুত। এর আগের দিনই বার্লিন লাইপজিগ বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে সরাসরি দায়ী করেছিল।
আয়ারল্যান্ডের উইকলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের ফাঁকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল রাশিয়ার সাথে যুক্তিসঙ্গত আলোচনার সম্ভাবনা পুনর্ব্যক্ত করেন। জার্মান প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে রাশিয়া যদি আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবেই তা সম্ভব হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার আগে ওয়েডফুল রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় একটি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। ওয়েডফুলের অভিযোগ, রাশিয়া পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে এবং এই হাইব্রিড হামলা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে এখন এই কর্মকাণ্ডের পরিণাম ভোগ করতে হবে।
গত মঙ্গলবার জার্মানি অভিযোগ করেছিল যে গত মাসে লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টা রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা ছিল এবং নিম্নস্তরের কর্মীরা তা বাস্তবায়ন করেছিল। বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডবরিডট এই তথ্য জানানোর পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।
তবে রাশিয়া বরাবরই ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোতে গুপ্তহত্যা, নাশকতা, ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মস্কো উল্টো পশ্চিমা সরকারগুলোকে 'রাশিয়া-বিরোধী প্যারানয়া' বা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য দায়ী করেছে।
এদিকে, এই ঘটনায় জার্মানির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ন্যাটোর ভূখণ্ডে বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতি করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি এবং সব মিত্রের পাশে আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জোটের সব হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সচেতন।
লাইপজিগ বিমানবন্দর একটি বড় পণ্য পরিবহন কেন্দ্র এবং সামরিক কার্গো পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের আন্তোনভ বিমানের মতো সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে এটি একটি প্রধান লজিস্টিক পয়েন্ট। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার এই ব্যর্থ চেষ্টাটি মূলত প্রচলিত সামরিক আক্রমণ ছাড়াই ইউক্রেনের জন্য এই সহায়তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত করার একটি কৌশল ছিল।

