আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তার দেশে রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়। যদি মস্কো এই ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইয়েরেভান তাতে কোনো বাধা দেবে না।
বিশকেকে ১ সেপ্টেম্বর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাশিনিয়ান এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সময়ের মধ্যে তারা রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, "আমরা এই সময়ের মধ্যে রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়টি একবারও তুলিনি, এবং এমনটি নয় যে আমরা আর্মেনিয়ার ভূখণ্ডে রাশিয়ার ১০২তম সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতিকে একটি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা বলে মনে করি।"
বৈঠকে আর্মেনিয়ার রেলওয়ে অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশিনিয়ান জানিয়েছেন, রেলওয়ে অবকাঠামোর জন্য রাশিয়ার কনসেশন চুক্তির অধিকার তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা ইয়েরেভানের জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, রেলওয়েতে বিনিয়োগের বিষয়টি মালবাহী পরিবহনের ওপর নির্ভর করছে। তিনি আরও বলেন, নতুন রুট চালু করা হলে তা নতুন কার্গো প্রবাহ তৈরি করবে এবং বিনিয়োগকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তুলবে।
রুশ সামরিক ঘাঁটির বিষয়ে পুতিন বলেন, এটি মূলত আর্মেনিয়ার নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, "আর্মেনিয়া যদি মনে করে যে রুশ সামরিক ঘাঁটি প্রয়োজন নেই, তবে আমরা কালই চলে যাব। আমরা কারো ওপর কিছু চাপিয়ে দেব না।" তবে পুতিন যোগ করেন, যদি আর্মেনিয়ার জনগণ রাশিয়ার উপস্থিতি চায় এবং মস্কোর সঙ্গে কাজ করতে ও সহযোগিতা বজায় রাখতে প্রস্তুত থাকে, তবে রাশিয়া সেখানে থেকে যাবে।
এদিকে, পাশিনিয়ান সরকার তুরস্ক ও আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়েরেভান আঙ্কারার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও স্থল সীমান্ত পুনরায় খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, পাশাপাশি বাকু’র সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

