টানা তৃতীয় হারের ফলে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স এখন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের কাছে ৮ রানে পরাজিত হয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে ফ্যালকনস টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল, অন্যদিকে নাইট রাইডার্স এখন পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থেকে কেবল গাণিতিক সম্ভাবনা নিয়ে টিকে আছে।
নাইট রাইডার্সের ইনিংসে ষষ্ঠ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে চার উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন দলের হাল ধরেন কাইরন পোলার্ড। নিজের ঘরের মাঠে সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা পোলার্ড ৩৬ বলে ৪১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন। রাহকিম কর্নওয়াল শুরুতেই কলিন মুনরো ও সুনীল নারাইনকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর নিকোলাস পুরানকেও সাজঘরে পাঠান। পোলার্ড এরপর জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৩৬ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে জোশুয়া দা সিলভার সঙ্গে মিলে জয়ের আশা জাগিয়ে তোলেন।
শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য নাইট রাইডার্সের প্রয়োজন ছিল ৪২ রান। কিন্তু শাদাব খানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৪ রান আসায় চাপের মুখে পড়েন ব্যাটাররা, যার ফলশ্রুতিতে পোলার্ড আউট হয়ে যান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৬ রান দরকার ছিল। জোশুয়া দা সিলভা শেষ বলে ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করলেও দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেননি, তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ফ্যালকনসের দুই ওপেনার শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। রাহকিম কর্নওয়াল প্রথম ওভারেই আকেল হোসেনের বলে চারটি বাউন্ডারি হাঁকান এবং পরের ওভারে এভিন লুইস লাহিরু কুমারার ওপর চড়াও হয়ে ১৫ রান তোলেন। সুনীল নারাইন ও উসমান তারিক এরপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরালে পাওয়ারপ্লে শেষে ফ্যালকনসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪৩ রান। ১০ ওভার শেষে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৭০ রান।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় হাসান নওয়াজ ও মঈন আলীর ব্যাটে। বিশেষ করে হাসান নওয়াজ ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং করে ৪৮ বলে ৭৬ রান করেন। মঈন আলীর সঙ্গে তার ১০৮ রানের জুটি দলকে ৪ উইকেটে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেয়, যার মধ্যে শেষ চার ওভারেই আসে ৫০ রান।

