সিরিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে থাকা আসাদ আমলের রাসায়নিক উপাদানগুলো ধ্বংস করার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা বা ওপিসিডব্লিউ-এর বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দামেস্কের মতে, সাবেক শাসনের পতনের পর এটি তাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি জানিয়েছেন, গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সিরিয়ার ভূখণ্ডে এটিই এ ধরনের প্রথম কোনো কার্যক্রম। ওলাবি একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করে যে কূটনীতি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে কী অর্জন করা সম্ভব। তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড অনুযায়ী সাবেক শাসনের এই জটিল উত্তরাধিকার সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ওলাবি আরও বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞের লক্ষ্য হলো সিরিয়ার জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, রাসায়নিক উপাদানগুলো যাতে ভুল হাতে না পড়ে তা রোধ করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করা। তিনি জানান, প্রতিটি সুরক্ষিত স্থান এবং চিহ্নিত গোলাবারুদ ধ্বংস করা কেবল সিরিয়ার জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই বিপদ দূর করবে।
তবে এই প্রক্রিয়ায় বাধার অভিযোগ তুলে ইব্রাহিম ওলাবি বলেন, ইসরায়েল বারবার রাসায়নিক উপাদান ধ্বংসের প্রচেষ্টায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। তার দাবি, ইসরায়েলি হামলার কারণে মাঝেমধ্যেই কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং ওপিসিডব্লিউ পরিদর্শকদের সফর বাতিল করতে হয়েছে। এই হামলাগুলো দেশি ও আন্তর্জাতিক কর্মীদের জীবনকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি হামলার মুখে আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকলে অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।
এদিকে, সিরিয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেছেন, ওপিসিডব্লিউ-এর নির্বাহী পরিষদ রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের অধীনে সিরিয়ার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পুনরায় কার্যকর করেছে। বর্তমানে ওপিসিডব্লিউ পরিদর্শকরা সিরিয়ায় অবস্থান করছেন এবং 'ক্যাটাগরি ৩' পর্যায়ের রাসায়নিক উপাদান ধ্বংসের বিষয়টি যাচাই করছেন। এর মধ্যে রয়েছে এম৪০০০ অ্যারিয়াল বোমা এবং ভলকানো রকেট, যা অতীতে খান শেখুন ও ঘুতায় রাসায়নিক হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ব্রুস সিরিয়ার এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার পাশাপাশি আসাদ আমলের রাসায়নিক হামলার শিকার ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

