পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বছর আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ফানিকুলার ট্রাম দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের স্মরণে বৃহস্পতিবার একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শহরের পাহাড়ের ঢালে চলা আইকনিক এই পরিবহন ব্যবস্থা দুর্ঘটনার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই ১৫০ বছরের পুরনো একটি জলপাই গাছের চারপাশে চুনাপাথরের ব্লক বসিয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নিহতদের নাম খোদাই করা আছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং লিসবনের প্যাট্রিয়ার্ক, যিনি চার্চের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেখানে আশীর্বাদ প্রদান করেন। পর্তুগালের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই ট্রাজেডি শহরটির পর্যটন খাতের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। লিসবণে গত বছর প্রায় ১০ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন এবং পর্তুগালে প্রতি বছর প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ আসেন, যা দেশটির অর্থনীতির বড় একটি উৎস।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণে দেরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এই দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২৪ জন আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে সরকারি তদন্ত চলমান থাকায় গ্লোরিয়া ফানিকুলারসহ শহরের আরও দুটি ফানিকুলার পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শহরের অন্যান্য সাধারণ ট্রাম চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পর্তুগালের সরকারি পরিবহন সংস্থা কারিস জানিয়েছে, তারা আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত ফানিকুলার আধুনিকায়নের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের মধ্যে এটি পুনরায় চালু করা। এছাড়া পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও কোনো ফৌজদারি দায়বদ্ধতা আছে কি না, তা নিয়ে মার্চ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।
এদিকে আরটিপি (RTP) সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা ভুক্তভোগী পরিবারের একটি চিঠি থেকে জানা গেছে, তারা গত এক বছর ধরে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো যোগাযোগ বা তথ্য পাননি। তারা একে “এক বছরের নীরবতা” বলে অভিযোগ করেছেন। গত বছর প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, স্টিলের নিরাপত্তা তারের ব্যর্থতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। সেই সময় ট্রামটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে গিয়ে রেললাইন থেকে ছিটকে একটি ভবনের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে গিয়েছিল।

