বসনিয়ান সার্ব সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের মরদেহ বৃহস্পতিবার সার্বিয়ায় পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে জাতিসংঘের আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগের সময় একটি হাসপাতালে ম্লাদিচের মৃত্যুর পর আদালত তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
প্রেসিডেন্ট ভুচিচ সাংবাদিকদের জানান, ম্লাদিচের পরিবার আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শেষকৃত্যের পরিকল্পনা ঘোষণা করবে। তবে এই শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অনেক সার্ব নাগরিক ম্লাদিচকে বীর হিসেবে মনে করেন, যদিও জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল তাকে জেনোসাইড, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে ভুচিচ বলেন, সার্বিয়ার পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ধারণা করছে যে, শেষকৃত্যে 'হাজার হাজার' মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করবে।
১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসায় ৮,০০০-এর বেশি মুসলিমকে গণহত্যা, ১৯৯২-৯৫ সময়কালের বসনিয়া যুদ্ধে রাজধানী সারায়েভোকে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ এবং অ-সার্ব বেসামরিক ও বন্দি সৈন্যদের জন্য কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প তৈরির অপরাধে ২০১৭ সালে ম্লাদিচকে দণ্ডিত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্রেব্রেনিৎসার গণহত্যা ছিল ইউরোপের প্রথম স্বীকৃত জেনোসাইড, যেখানে জাতিসংঘের তথাকথিত 'নিরাপদ অঞ্চল' থেকে পুরুষ ও ছেলেদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
ম্লাদিচের মৃত্যুর পর থেকেই সার্বিয়ায় তার সম্মানে বিভিন্ন স্থানে ভিজিলে অংশ নিচ্ছেন হাজারো মানুষ। এই ঘটনাটি বলকান অঞ্চলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যেখানে যুদ্ধের তিন দশক পরেও জাতিগত বিভাজন স্পষ্ট। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মনে করে, জাতিসংঘের আদালতের রায় তাদের প্রিয়জনদের মৃত্যুর কিছুটা হলেও বিচার নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়াধীন সার্বিয়া তাদের যুদ্ধের ভূমিকার প্রশ্নে এখনো অনড়। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ পশ্চিমা বিশ্ব ও দ্য হেগ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, তারা কেবল সার্বদেরই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে এবং সার্ব ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দিচ্ছে না। মানবিক কারণে ম্লাদিচকে বাড়িতে মরার সুযোগ না দেওয়ায় তিনি আদালতের আচরণেরও কড়া সমালোচনা করেন।
বসনিয়ার ভয়াবহ সেই যুদ্ধে ১ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছিল, যা ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়।

