ফ্রান্স তার ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত করেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী। ১৯০০ সালে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে এমন রেকর্ড তাপমাত্রা আগে কখনও দেখা যায়নি। জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস জুড়ে চলা তীব্র দাবদাহের তথ্য তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী মনিক বারবুট এই ঘোষণা দেন।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেটিও ফ্রান্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে দিনের ও রাতের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি। এর আগে ২০০৩ সালের গ্রীষ্মকালকে সবচেয়ে উষ্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যখন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৪.৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি ছিল।
এই গ্রীষ্মে ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের কোটি কোটি মানুষ চরম তাপমাত্রা অনুভব করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, ১৯৮০-র দশক থেকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপ দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে।
তীব্র তাপমাত্রার পাশাপাশি ফ্রান্স এই বছর চরম বৃষ্টিহীনতার কবলেও পড়েছে। মেটিও ফ্রান্সের মতে, স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা রেকর্ড শুরুর পর থেকে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এছাড়া এ বছর ৫৩ দিন ধরে তাপপ্রবাহের কবলে ছিল দেশটি, যা ২০২২ সালের ৩৩ দিনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তীব্র দাবদাহের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি উত্তরের শীতল এলাকা ও ব্রিটানির মতো অঞ্চলেও আগুন নেভাতে দমকল বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছে। বর্দো অঞ্চলের নিকটবর্তী বনভূমিতে ছড়িয়ে পড়া এক ঐতিহাসিক দাবানলে আড়াই লক্ষাধিক মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হয়েছিল।
মেটিও ফ্রান্স আরও জানিয়েছে, শুধু গ্রীষ্মকালেই নয়, বরং মে মাস ও সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেও অস্বাভাবিক উষ্ণতা অনুভূত হয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ড ও কর্সিকার উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ।

