হংকংয়ের একটি আদালত বৃহস্পতিবার ৯৪ বছর বয়সী রোমান ক্যাথলিক কার্ডিনাল জোসেফ জেন এবং আরও চারজনের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে। ২০১৯ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি তহবিল নিবন্ধনে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছিল।
কার্ডিনাল জোসেফ জেন, যিনি অবসরপ্রাপ্ত বিশপ এবং গণতন্ত্রের একজন সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত, তিনি '৬১২ হিউম্যানিটারিয়ান রিলিফ ফান্ড'-এর ট্রাস্টি ছিলেন। এই তহবিলটি ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসা ও আইনি খরচ মেটাতে সহায়তা করত। এই মামলার অন্যান্য বিবাদী হলেন গায়িকা ডেনিস হো, পণ্ডিত হুই পো কেউং এবং সাবেক গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতা মার্গারেট এনজি ও সিড হো।
২০২২ সালে আদালত এই পাঁচজনকে 'সোসাইটিস অর্ডিন্যান্স' বা সমিতি অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সংস্থাগুলোকে প্রতিষ্ঠার এক মাসের মধ্যে নিবন্ধন করা বা অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। তৎকালীন এই রায়ে তাদের প্রত্যেককে ৪,০০০ হংকং ডলার (৫১২ মার্কিন ডলার) করে জরিমানা করা হয়েছিল, যা হংকংয়ের ইতিহাসে এই ধরনের প্রথম সাজা ছিল।
বিচারক জেরেমি পুন, আরিফ বার্মা এবং ডেরেক পাং তাদের রায়ে উল্লেখ করেন যে, তহবিলটি প্রতিষ্ঠার পর এক মাসের মধ্যে নিবন্ধন বা অব্যাহতির জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি। বিচারকদের মতে, বিবাদীরা এই তহবিলকে ২০১৯ সালের বিক্ষোভের সমর্থনে অনুদান সংগ্রহ ও বিতরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তারা বলেন, এই তহবিল কেবল বিবাদীদের কাছে গচ্ছিত অর্থ নয়, বরং এটি একটি সংগঠিত রূপ পেয়েছে। এছাড়া, এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মেলামেশার স্বাধীনতায় কোনো অগ্রহণযোগ্য কঠোর বোঝা চাপানো হয়নি বলেও আদালত মন্তব্য করে।
রায় ঘোষণার পর মার্গারেট এনজি সাংবাদিকদের জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে শহরের শীর্ষ আদালতে আপিল করবেন। তিনি বলেন, একটি 'সোসাইটি' বা সমিতি বলতে কী বোঝায় এবং অন্যের সাথে কোনো কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের কাছে নিবন্ধন বা অব্যাহতির আবেদন করা বাধ্যতামূলক কি না, তা শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এই মামলার রায় হংকংয়ের নাগরিক সমাজের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
কার্ডিনাল জোসেফ জেন আদালতে লাঠিতে ভর দিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে তাকে এবং অপর চারজনকে বেইজিংয়ের চাপিয়ে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে বিদেশি শক্তির সাথে আঁতাতের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যদিও তাদের সেই আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। সেই সময় কার্ডিনাল জেনের গ্রেফতারের ঘটনায় ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর কার্ডিনাল জেন বলেছিলেন, তার এই মামলাকে শহরের ধর্মীয় স্বাধীনতার সাথে যুক্ত করে দেখা উচিত নয়।
উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল এমন একটি বিলের বিরোধিতার মাধ্যমে, যা অপরাধীদের মূল ভূখণ্ড চীনে হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করত। পরবর্তীতে এই আন্দোলন মাসব্যাপী সহিংসতায় রূপ নেয়। ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে এবং অনেক কর্মীকে এই আইনের অধীনে কারাবন্দী করা হয়েছে। বেইজিং ও হংকং কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে যে, শহরের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এই আইন অপরিহার্য।

