যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে তুরস্ক তার কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফোনালাপে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন যে, তুরস্ক এই অঞ্চলের সংকট নিরসনে শান্তি-ভিত্তিক কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবে। এছাড়া, তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা এই অঞ্চলের কোনো ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আক্রমণ কখনোই মেনে নেবে না।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই আঙ্কারা বারবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপের সমর্থক হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। তুরস্ক উভয় পক্ষ এবং আঞ্চলিক সরকারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে। মে মাসে এরদোয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান, বাহরাইন ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের টেলিকনফারেন্সে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে ইরান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সে সময় তুর্কি প্রেসিডেন্ট সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো চুক্তি বাস্তবায়নে তুরস্ক সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পরবর্তীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপে এরদোয়ান পুনরায় নিশ্চয়তা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, তার জন্য তুরস্ক সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।
এর আগে জুন মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ঘোষণা আসে, তখন এরদোয়ান একে সংঘাত অবসানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তিনি সে সময় পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই পুরো সংকটকালীন সময়ে তুরস্ক তার 'কূটনীতি-প্রথম' নীতি অনুসরণ করে চলেছে।

