শনিবার যুক্তরাজ্যের ব্যস্ততম ফেরি বন্দর ডোভারের প্রবেশপথ মুখোশধারী একদল ব্যক্তি অবরোধ করে রেখেছে। এই ঘটনার জেরে বন্দর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত এবং মুখ ঢাকা কয়েক ডজন ব্যক্তি বন্দরের নিকটবর্তী প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলছেন।
ন্যাশনাল হাইওয়েজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই অবরোধের ফলে প্রায় ৪ মাইল বা ৬.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে যাত্রীদের ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বিলম্বের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ডোভার এবং ফ্রান্সের ক্যালে রুটে চলাচলকারী ফেরি অপারেটর পিঅ্যান্ডও ফেরিস জানিয়েছে, তাদের জাহাজগুলো সময়সূচী অনুযায়ী চলছে এবং যেসব যাত্রী নির্ধারিত ফেরি ধরতে পারেননি, তাদের পরবর্তী ফেরিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে।
লন্ডন থেকে প্রায় ৭০ মাইল বা ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ডোভার বন্দরটি অতীতেও অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিশেষ করে ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ঘিরে এই বিক্ষোভগুলো সংগঠিত হয়। রিফর্ম ইউকে পার্টির নাইজেল ফারাজসহ অনেক রাজনীতিবিদ এই ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে এসেছেন এবং শুক্রবারের এক ভাষণে তিনি আশ্রয়প্রার্থীদের ‘আগ্রাসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে লেবার পার্টি সরকারের দাবি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর সমুদ্রপথে আসা মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ডোভারের লেবার দলীয় সংসদ সদস্য মাইক ট্যাপ এই অবরোধের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘ডোভারের জনজীবন ব্যাহত করতে আসা এই মূর্খদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা হয়তো জানবেও না যে ছোট নৌকায় আসা মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশ কমেছে এবং আমরা এই সংকট নিরসনে কঠোর পরিশ্রম করছি। বাড়িতে ফিরে গিয়ে সপ্তাহান্ত উপভোগ করুন অথবা একটি চাকরি খুঁজুন।’

