জনগণই সরকারের ক্ষমতার আসল উৎস: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা সুরক্ষা করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকসের (দায়রা) আয়োজনে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ এ তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন স্পষ্ট করেন যে, সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস দেশের জনগণ।

মাহদী আমিন বর্তমান সরকারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি বিগত ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থাকে কর্তৃত্ববাদী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল বিএনপি। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যু কিংবা ভুয়া মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বিএনপি, যা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বরং দলটির বৃহত্তম রাজনৈতিক অবস্থানই এর কারণ।

তিনি জানান, কেবল একটি দল নয়, বরং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং সোচ্চার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তৎকালীন সরকারের লক্ষ্যবস্তু ছিল। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন অনেক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। এই অপূরণীয় ক্ষতির বেদনা নতুন সরকার অনুধাবন করে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বজন হারানোর ব্যথায় ভুক্তভোগী উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, তার বাবা রাষ্ট্রপতি থাকাকালে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, মাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে জেলে রাখা হয়েছিল এবং তার ভাইকেও নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বাকস্বাধীনতা হরণ ও বাড়ি বাজেয়াপ্তসহ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই অতীতে গুম ও ভুয়া মামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি জানান।

মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি ‘রিসেট বোতাম’ চেপে কাজ শুরু করেছে। অতীতে ক্ষমতার উৎস ছিল পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন, কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষমতার উৎস সাধারণ জনগণ। সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার গত পাঁচ মাসে সুনির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে।

সরকার প্রতিশোধের সংস্কৃতির পরিবর্তে ন্যায়বিচারের নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত দিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল অপরাধী ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে কোনো নির্দোষ মানুষ যেন মুক্ত মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তাও নিশ্চিত করা হবে। ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিহীন সময়ে বিএনপি ও গণতন্ত্রকামী দলগুলো রাজপথে থেকে শান্তি ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছিল বলেও তিনি স্মরণ করেন।

মাহদী আমিন আরও জানান, নারী ও যুবসমাজকে ক্ষমতায়ন করা এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডার অংশ। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদেও বজায় থাকবে।