ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ওলনোয়-আইমেরিসের মেয়র বার্নার্ড বোডক্স অধিকৃত পশ্চিম তীরে সফরের সময় অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন। শনিবার ফিলিস্তিনি শহর তাইবেহতে একটি সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সৌজন্য সফরে গিয়ে তিনি এই সহিংসতার সম্মুখীন হন। তিনি জানিয়েছেন, বসতি স্থাপনকারীরা তাকে লাথি মেরেছে এবং লোহার রড দিয়ে আঘাত করেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বোডক্স জানান, দুই থেকে তিনটি গাড়ি নিয়ে হঠাৎ করে কিছু লোক সেখানে উপস্থিত হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করে। ফরাসি পতাকার রঙে তৈরি স্যাশ পরিহিত অবস্থায় তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, এই সহিংসতার কোনো কারণ ছিল না এবং আক্রমণকারীরা চরম উত্তেজিত ছিল। তার সাথে থাকা প্যারিশের পুরোহিত তাকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেন, যার পর তারা গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বোডক্স বড় ধরনের কোনো গুরুতর আঘাত পাননি এবং তার সফর চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
এই ঘটনার পর বোডক্স ইসরায়েলি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, বসতি স্থাপনকারীরা যেভাবে আচরণ করছে, তা প্রমাণ করে যে ইসরায়েলি সরকার তাদের সহিংসতাকে এক প্রকার সহ্য করছে। তিনি আরও বলেন, পুরো বিশ্বের জানা উচিত সেখানে কী ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার সফর শেষ করে তিনি নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন, কিন্তু ফিলিস্তিনিরাই সেখানে সবচেয়ে বেশি ভুগছে।
এই সফরে তার সঙ্গী ছিলেন জেরুজালেমে নিযুক্ত ফরাসি কনসাল জেনারেল এবং তার নিজ প্যারিশের একজন পুরোহিত। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ওলনোয়-আইমেরিস শহরের সাথে খ্রিস্টান অধ্যুষিত ফিলিস্তিনি শহর তাইবেহর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বোডক্স দোষীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সহিংসতার আশ্রয় নেওয়াকে ফ্রান্স কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা এই সহিংসতাকে উসকে দিতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত যে ফ্রান্স কোনোভাবেই ভয় পাবে না।

