২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখে নাগোয়ার চোখজুড়ানো সবুজ ঘেরা খারোগি অ্যাথলেটিক পার্কে বাংলাদেশের ক্রিকেটের রূপটি ছিল একেবারেই মলিন। এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের দাপুটে ক্রিকেটের সামনে দাঁড়াতেই পারল না নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ভারতের ছুড়ে দেওয়া রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের চরম ঘাটতি প্রকাশ করে বড় ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই হারের ফলে টুর্নামেন্টে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে বাংলাদেশের, এখন তাদের সামনে কেবল ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগ অবশিষ্ট রয়েছে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করে ভারত। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারেই স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা স্কোরবোর্ডে তুলে নেন ৭২ রান। ৩৭ রান করা মান্ধানাকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন নাহিদা আক্তার। এরপর উইকেটকিপার গুনালান কামালিনির উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও তা স্থায়ী হতে দেননি শেফালি ভার্মা। হারমানপ্রীত কৌরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ৯৪ রানের এক বিধ্বংসী জুটি।
দলীয় সংগ্রহকে বড় করতে গিয়ে হারমানপ্রীত ৪০ রানে রাবেয়া খানের শিকার হন। এরপর রিচা ঘোষও মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফেরেন। তবে অন্য প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর তান্ডব চালাতে থাকেন শেফালি. ইনিংসের শেষ ওভারে সেঞ্চুরির জন্য তার প্রয়োজন ছিল ২ রান। চতুর্থ বলে ১ রান নিয়ে ৯৯ রানে পৌঁছানোর পর, শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেন এই ওপেনার। মাত্র ৪৯ বলে খেলা তার এই অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কার মার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মারুফা আক্তার ১টি (১/৪৩), মেঘলা ১টি (১/২৫), রাবেয়া ১টি (১/৩৫) এবং নাহিদা আক্তার ১টি (১/৪৮) উইকেট নেন।
জবাবে ১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৮ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে ৩টি উইকেট। দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে চারজনই আউট হন এক অঙ্কের ঘরে সাজঘরে ফিরে। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এই ম্যাচেও দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন। কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন ওপেনার দিলারা আক্তার। তবে ব্যক্তিগত ২৭ রান করে দিলারা যখন মাঠ ছাড়েন, তখন ৪৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে দল।
দিলরার বিদায়ের পর বাকি পাঁচ ব্যাটার মিলে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৬ রান যোগ করতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। সুলতানা খাতুন ১২ রানে অপরাজিত থাকেন এবং শারমিন আক্তার করেন ১০ রান। ভারতের বোলারদের মধ্যে নান্দিনি ২৫ রানে ৩টি, দীপ্তি শর্মা ৭ রানে ৩টি, শ্রী চারানি ৭ রানে ২টি এবং শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ২২ রানে ১টি উইকেট শিকার করেন।
ভারতের কাছে ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানের এই পরাজয় কোনো একক খেলোয়াড়ের ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত ব্যর্থতারই চিত্র। কিছুদিন আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও এই ভারতের কাছেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালেও একই পরিণতির পুনরাবৃত্তি ঘটল। তবে টুর্নামেন্ট থেকে এখনো খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না টাইগ্রেসদের। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সমর্থকদের প্রত্যাশা, সেই ম্যাচে অন্তত হারের ভয় কাটিয়ে জয়ের জেদ নিয়ে লড়াই করবে লাল-সবুজের দল।

