ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সংস্করণে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাত ২২:২৯ মিনিটে মিরপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই ঘোষণা দেন। এর ফলে ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই বছরে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের ফলে ক্রিকেটারদের উপার্জনে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, আর্থিক ক্ষতি এড়াতে জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজন করা হবে না। পরবর্তীতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের (COAB) সঙ্গে বৈঠকের পর ম্যাচ ফি বাড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পুরুষ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে (এনসিএল ও বিসিএল) ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর আগে গত মে মাসে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তামিম ইকবাল এই ফি ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। এছাড়া একদিনের সংস্করণে (লিস্ট এ) ম্যাচ ফি ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
পুরুষদের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা ও ম্যাচ ফিও বৃদ্ধি করেছে বোর্ড। নারীদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে টেস্টের উপযোগী করে তুলতে ম্যাচের সময়সীমা তিন দিনের পরিবর্তে চার দিন করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ওয়ানডেতে এই ফি ২০ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শতভাগ পেশাদারিত্ব দাবি করেছেন বিসিবি সভাপতি। তামিম ইকবাল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমাদের তরফ থেকে যে চাওয়া, এটা এখন ওদেরও পূরণ করতে হবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব নিয়ে অনেক ধরনের আলোচনা হয়। এতে কোনো ছাড় নেই। যখন কেউ ফিটনেস টেস্ট পাস না করে এটা-ওটা নিয়ে অনুরোধ করে, এগুলো কিছু শোনা হবে না।'
বিপিএল না হওয়ার শূন্যতা কাটাতে এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিকে জমজমাট করতে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নামে একটি নতুন টুর্নামেন্ট চালুর পরিকল্পনা করছে ক্রিকেট বোর্ড। বিভাগীয় দলের পরিবর্তে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দল নিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলগুলোর নামকরণের স্বত্ব থাকবে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের হাতে। বিসিবি সভাপতি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে বোর্ডের আর্থিক সক্ষমতা বাড়লে দুই বছর পর এই ম্যাচ ফি আবারও পর্যালোচনা বা বৃদ্ধি করা হতে পারে।

