দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ শনিবার জানিয়েছে, জোহানেসবার্গের নিকটবর্তী এলাকায় আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি নিয়ে গত কয়েক মাসে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১০ জন নারীর মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল কর্তৃপক্ষ।
তদন্তের সূত্রপাত হয় জুলাই ও আগস্ট মাসে, যখন জোহানেসবার্গের পূর্বে একুরহুলেনি মিউনিসিপ্যালিটির প্রায় ৭ কিলোমিটার (৪.৩ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ১০ দিনের ব্যবধানে আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে এমন ভীতি তৈরি করেছে যে, এর পেছনে কোনো সিরিয়াল কিলার বা খুনি জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নবম মরদেহটি উদ্ধারের ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভিকটিমকে ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এই দুই নারীকে অন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত করতে পারেনি। প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল টমি এমথোমবেনি শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসিকে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা নবম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন, তবে অন্যান্য ঘটনার সাথে যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কিছু মিল পাওয়া গেলেও, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এর জন্য দায়ী—এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। শনিবারের আগের নয়টি মরদেহের ক্ষেত্রেই ভিকটিমদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে নগ্ন বা অর্ধনগ্ন অবস্থায় প্রধান সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। জটিল অপরাধ তদন্তে বিশেষজ্ঞ পুলিশ ইউনিট 'ইনভেস্টিগেটিভ সাইকোলজি ইউনিট'-এর কর্মকর্তারাও এই তদন্তে সহায়তা করছেন।
শনিবার সকালে পাওয়া ১০ম মরদেহটির বিষয়ে খুব সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকান পুলিশ সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কেবল মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে এবং ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ কাজ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংস অপরাধ এবং নারীর প্রতি সহিংসতার হার অত্যন্ত বেশি। একুরহুলেনিতে ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশজুড়ে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

