বলিভিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে পৌঁছেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনিক রাজধানী লা পাজ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ভিয়াচা শহরে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটিতে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সামরিক স্থাপনাটি মূলত বাজেয়াপ্ত করা আতশবাজি, গ্রেনেড এবং টিএনটি-ভিত্তিক বিস্ফোরক সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতো। নিহতদের মধ্যে তিনজনকে সেনা সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে উদ্ধার হওয়া বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো ১১ জন সামরিক কর্মী ও নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবারও দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত ছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশেপাশের বাড়িঘরের ছাদ উড়ে গেছে, পাথর ছিটকে পড়েছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং অনেক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর ভিয়াচার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় থেকে নরহত্যা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তাপও বেড়েছে। বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস, যিনি ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংকট সামাল দিতে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। মোরালেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে সরকারের যে দায়িত্বহীনতা রয়েছে তা যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়েরের দাবি রাখে।

