বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মাদক গ্যাংগুলোর ক্রমবর্ধমান তাণ্ডব ও সহিংসতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সেন্ট গিলস এলাকার একটি জনপ্রিয় পিজারিয়া (পিজ্জা রেস্তোরাঁ) অপরাধস্থলে পরিণত হয়, যখন মাদক চক্রের সদস্যরা সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। সেন্ট গিলস এলাকাটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এটি লন্ডন ও প্যারিস থেকে আসা ট্রেনযাত্রীদের প্রধান স্টেশন ‘মিডি’-র অত্যন্ত কাছাকাছি।
গত সোমবার রাতে সালভাতোরের পিজারিয়াতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এটি ছিল ওই এলাকায় মাত্র তিন দিনের মধ্যে তৃতীয় গোলাগুলির ঘটনা। আতঙ্কিত সালভাতোরে সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, "আমরা সবাই মেঝেতে শুয়ে পড়েছিলাম। আমার রেস্তোরাঁর বাইরের অংশে তখন শিশুরাসহ গ্রাহকরা খাচ্ছিলেন। দেখুন, চারপাশের দেয়ালে বুলেটের আঘাতের চিহ্নগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা কি কোনো আমেরিকান গ্যাংস্টার সিনেমায় আছি? এই সহিংসতা এবার বন্ধ হওয়া দরকার।"
এর ঠিক আগের দিন একই এলাকায় এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারির পায়ে গুলি করা হয়। পিজারিয়ার ঠিক বিপরীত পাশে ৭০ বছর বয়সী মুরিয়েল তার কুকুর শেভাকে নিয়ে বসেছিলেন। রাস্তার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "আমরা এখনও সেখানে জমে থাকা রক্তের দাগ দেখতে পাচ্ছি। আমি এই এলাকাটি পছন্দ করি, এটি শহরের ভেতরে একটি ছোট গ্রামের মতো। একসময় মাদক বিক্রেতারাও বেশ ভদ্র ছিল। আমি তাদের একটু দূরে যেতে বললে তারা বলত, 'ঠিক আছে মা!' কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।"
মুরিয়েল জানান, গত ছয় মাসে এই এলাকায় মাদক ব্যবসা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এখন মাদক কেনার জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দিতে দেখা যায় এবং এই লাভজনক স্পটটি দখল করতে গ্যাংগুলো নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকেই এখানে মাদক কেনাবেচা চলছে। এই এলাকায় পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে এক ক্রেতাকে বিক্রেতার সাথে হাত মিলিয়ে মাদক নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। ব্রাসেলসের এই দরিদ্রতম অঞ্চলটিতে বর্তমানে 'ক্র্যাক' কোকেনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ব্রাসেলস সাউথ পুলিশের প্রধান ইয়ুর্গেন দে ল্যান্ডশিয়ার জানিয়েছেন, ব্রাসেলসের একটি সফল মাদক স্পট থেকে একজন ডিলার প্রতিদিন ৫০,০০০ ইউরো (প্রায় ৫৮,০০০ ডলার বা ৪৩,০০০ পাউন্ড) বা তার চেয়েও বেশি আয় করতে পারে। বিপুল পরিমাণ অর্থের এই লোভই মূলত অপরাধ চক্রগুলোকে চরম সহিংস করে তুলছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, পুরো শহরজুড়ে বর্তমানে ২০০টিরও বেশি সক্রিয় মাদক স্পট রয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে কোকেনের সহজলভ্যতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাসেলস থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দূরে অবস্থিত অ্যান্টওয়ার্প বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ কোকেন ইউরোপে প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বন্দরে রেকর্ড পরিমাণ কোকেন জব্দ করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

