এনএফএল-এ নিজের দ্বিতীয় মৌসুম শুরু করার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন টেনেসি টাইটানসের কোয়ার্টারব্যাক ক্যাম ওয়ার্ড। ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনসের শেইডুর স্যান্ডার্সের সঙ্গে তার তুলনা টেনে তীব্র সমালোচনা করেছেন এক ক্রীড়া বিশ্লেষক।
ন্যাশভিলের ক্রীড়া বিশ্লেষক জ্যারেড স্টিলম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ওয়ার্ডের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, স্যান্ডার্সের যে সমস্ত নেতিবাচক দিক দেখে একসময় এনএফএল দলগুলো পিছিয়ে গিয়েছিল, ক্যাম ওয়ার্ডের মধ্যেও ঠিক সেই একই দুর্বলতাগুলো রয়েছে। স্টিলম্যান বলেন, শেইডুর স্যান্ডার্সকে নিয়ে এনএফএল যেসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, ক্যাম ওয়ার্ড ঠিক তেমনই। তিনি আরও যোগ করেন, স্যান্ডার্সের মাঠের বাইরের নানা নাটকীয়তা এবং তার বাবা ডিওন স্যান্ডার্সের কারণে দলগুলো তাকে ড্রাফট করতে ভয় পেত। তাদের আশঙ্কা ছিল, স্যান্ডার্সকে দলে নিলে তাদের চাকরি হারাতে হতে পারে।
স্টিলম্যানের মতে, ক্যাম ওয়ার্ডের মধ্যে এক নম্বর ড্রাফট হওয়ার মতো প্রতিভা নেই। তিনি বলেন, সে উচ্চতায় খাটো, তার খেলার মেকানিক্স খারাপ এবং সে পাসিংয়ে নির্ভুল নয়। মায়ামিতে খেলার সময়ও সে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারত না, ঠিক যেমন শেইডুরেরও এক নম্বর হওয়ার মতো যোগ্যতা নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ওয়ার্ডকে টেনেসি বা এনএফএল-এ শুরুর একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে প্যাট্রিক মাহোমস বা ব্রেট ফাভরের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। স্টিলম্যানের দাবি, কোনো কিছু খারাপ হলেই ওয়ার্ড এবং তার চারপাশের মানুষ অন্যকে দোষারোপ করে।
অন্যদিকে, ক্লিভল্যান্ডে নিজের অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন স্যান্ডার্স। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এখানে প্রতিদিন খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। নিজের প্রথম মৌসুমের পর কতটা উন্নতি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে বোকা মনে করেন না এবং তিনি নিজেকে বেশ বুদ্ধিমান ভাবেন।
চলমান প্রিসিজনে টাইটানস ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে ঘাটতি স্পষ্ট। গত রোববার নিসান স্টেডিয়ামে সিয়াটল সিহকসের বিপক্ষে ১৯-১৬ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় পায় টেনেসি। এই ম্যাচে ওয়ার্ড ১২টি পাসের মধ্যে ৮টি সফল করেন এবং ৬৯ ইয়ার্ড অর্জন করেন। এটি সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি নাইনার্সের বিপক্ষে প্রথম সপ্তাহের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভালো হলেও তার সবচেয়ে দীর্ঘতম ৩৩ ইয়ার্ডের পাসটি ছিল রানিং ব্যাক টনি পোলার্ডের কাছে একটি সাধারণ চেকডাউন। তার দলের মূল রিসিভাররা ছিলেন নিষ্প্রভ; রুকি কার্নেল টেট ৫টি টার্গেটের একটিতেও ক্যাচ নিতে পারেননি।
ম্যাচে চাপের মুখে বল হাতছাড়া করার পুরোনো রোগটি আবার দেখিয়েছেন ওয়ার্ড। স্যাক হওয়ার পর তার হাত থেকে বল ছিটকে সীমানার বাইরে চলে যায়, যা টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে চাপের মুখে তার টার্নওভারের উদাহরণ। এই প্রিসিজনে টেনেসির মূল আক্রমণভাগ ৬টি পজেশনের মধ্যে মাত্র একটি টাচডাউন করতে পেরেছে। অন্যদিকে, টাইটানসের রক্ষণভাগ আরও বেশি হতাশ করেছে। সিয়াটলের ব্যাকআপ কোয়ার্টারব্যাক ড্রু লক টেনেসির প্রথম সারির রক্ষণভাগের বিপক্ষে ১৪টি পাসের ১২টি সফল করে ১০৩ ইয়ার্ড এবং একটি টাচডাউন আদায় করেন। এছাড়া রানিং ব্যাক জ্যাকার্ডিয়া রাইট ৬৯ ইয়ার্ডের একটি দুর্দান্ত রান করে স্কোর করেন।

