চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো এবং এর আশপাশের অঞ্চলে গত বৃহস্পতিবার মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে রাস্তাঘাটে গাড়ি ভেসে গেছে, ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সান্তিয়াগোর পূর্বে অবস্থিত ধনী শহরতলি লাস কোন্দেস-এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত। এর ফলে সরকারি সংস্থাগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় অতিরিক্ত ক্ষমতা পাবে। লাস কোন্দেসের মেয়র কাতালিনা সান মার্তিন জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে ১৪.৪ সেন্টিমিটার (৫.৭ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অক্টোবরের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে প্রায় নয় গুণ বেশি। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ওই অঞ্চলের মাটি সম্পূর্ণভাবে পানি শোষণ ক্ষমতা হারিয়েছে।
সান্তিয়াগোর বুক চিরে বয়ে যাওয়া মাপোচো নদী উপচে পড়ায় আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিলির দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা আরও ভূমিধসের আশঙ্কায় অন্য ১০টি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং শুক্রবার স্কুলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হওয়া ঝড়ে মধ্য চিলির কয়েক ডজন ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সান্তিয়াগোর প্রায় ১২,০০০ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। তবে শুক্রবার নাগাদ এই বর্ষণ কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের এই দুর্যোগে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে, যার হাড় ভেঙে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দমকল বাহিনীর কর্মীরা এ পর্যন্ত ১,০০০-এরও বেশি মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়া চক্র 'এল নিনো' শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই বন্যা দেখা দিল। গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির এই প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে দেয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে সাধারণত আর্দ্র বসন্ত নিয়ে আসে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এবারের এল নিনো আগামী ডিসেম্বরে চরম রূপ নিতে পারে এবং এটি ১৯৫০ সালের পর থেকে অন্যতম তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

