অটোয়ায় লিবারেল পার্টির আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ঐতিহাসিক নির্ভরতা কাটিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কানাডা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে এক ব্যস্ত সপ্তাহ পার করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
কার্নি বলেন, "এই বৈশ্বিক ফাটলের মধ্যে আমাদের অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে।" বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্ট্রাসবার্গ থেকে ফিরে আসার পর শুক্রবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশন শুরুর আগে এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। এর আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি বলেছিলেন যে কানাডা ও ইউরোপের আরও বেশি স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, যাতে কোনো দেশ তাদের বাজার নিয়ন্ত্রণ, সার্বভৌমত্বে আঘাত বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে না পারে।
কানাডা ও ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এই প্রধান কানাডার শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর তুলনা করেন। বর্তমানে মার্কিন সরকারের ঋণ নেওয়ার ব্যয় কানাডার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। কার্নি বলেন, "আর্থিক বাজার এখন সবল ও দুর্বলের পার্থক্য করতে মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। আমরাই সেই সবল পক্ষ। আমরাই শক্তিশালী কানাডা।"
গত সাত দিনে কার্নি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে স্বাগত জানিয়েছেন, টরন্টোতে বড় আকারের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের একত্র করেছেন, লিভারপুলে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সাথে বৈঠক করেছেন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন। স্ট্রাসবার্গে তিনি জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গবেষণার মতো কৌশলগত খাতে ইউরোপের সাথে গভীর অংশীদারিত্বের আহ্বান জানান, যাতে কানাডাকে আর একটি মাত্র দেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়। আগামী ২৯-৩০ অক্টোবর মন্ট্রিল শহরে কানাডা-ইইউ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলেছেন এবং অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায় এবং তা এখনও স্থগিত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিটে ঘোষিত একটি ব্যবসায়িক কর ছাড়ের প্রশংসা করেন কার্নি। এর ফলে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর করের হার কমে দাঁড়াবে ৬.৪ শতাংশে, যা মার্কিন হারের অর্ধেকেরও কম। ট্রাম্পের কর ও ব্যয় আইনের দিকে ইঙ্গিত করে কার্নি রসিকতা করে বলেন, "আমাদের বড় কোনো সুন্দর বিলের প্রয়োজন ছিল না। আমাদের প্রয়োজন ছিল একটি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের।" ট্রাম্পের পরিচিত হাতের ভঙ্গি অনুকরণ করে কার্নি দাবি করেন, একটি বড় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্প থেকে "১৮টি হুভার ড্যাম"-এর সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
এই বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কানাডা সরকার প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। কার্নি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এই বলে, "গত সাত দিনে আমরা এক মিত্রের পাশে দাঁড়িয়েছি, দেশে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ এনেছি এবং ইউরোপের সাথে সম্পর্ক গভীর করেছি। এটি অনেক বড় অর্জন, তবে এটি কেবল শুরু মাত্র।"

