ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত ওলেশকি শহরে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানোর লক্ষ্যে শুরু হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি এখন বৃহত্তর খেরসন অঞ্চলে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির কোনো লঙ্ঘনের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, যিনি পোপ লিও চতুর্দশ-এর সাথে মিলে এই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছেন, মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে মানবিক সহায়তা বহরের নিরাপদ চলাচলের জন্য এই এলাকা বাড়ানো হয়েছে।
খেরসনের উপ-প্রধান ওলেক্সান্দ্র তোলোকননিকভ এবং ইউক্রেনের পাবলিক ওম্বুডসম্যানের প্রেস সেক্রেটারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসন শহর এবং রুশ-অধিকৃত বৃহত্তর অঞ্চলে রাশিয়ার গোলাবর্ষণ বন্ধ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দলের শীর্ষ কর্মকর্তা ডেভিড আরাখামিয়া জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি আগামী ১ নভেম্বর ইউক্রেনীয় সময় রাত ১০:৫৯ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এটিকে ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় ‘ডি-এসক্যালেশন’ বা উত্তেজনা প্রশমন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওলেশকি শহরে বর্তমানে আনুমানিক ১,৭০০ থেকে ২,০০০ মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও কয়েক হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন। যুদ্ধের আগে এই শহরের জনসংখ্যা ছিল ২৪,০০০। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া শহরটি দখলের পর থেকে সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। ২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের পর এলাকাটি প্লাবিত হয় এবং অনেক মানুষ প্রাণ হারান। বর্তমানে বাসিন্দারা চরম খাদ্যাভাবে ভুগছেন এবং বাগানের আগাছা রান্না করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে এবং তিনি এই মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি সফল হলে তা শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী প্রধান সড়কগুলো থেকে বিস্ফোরক ও মাইন অপসারণের কাজ করছে।
তবে এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন যে, মাইনমুক্ত করা রাস্তা দিয়ে বেসামরিক নাগরিকরা রাশিয়াতে চলে যেতে বাধ্য হতে পারেন। অন্যদিকে, ওলেশকির রুশ-স্থাপিত প্রধান ভ্লাদিমির সালদো দাবি করেছেন যে, বাসিন্দারা রাশিয়া বা ক্রিমিয়ায় আশ্রয় নিতে আগ্রহী। ওলেশকির বাসিন্দারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় এবং রাশিয়ার প্রতিশোধের ভয়ে মুখ খুলতে দ্বিধা করছেন। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জনগণকে যাচাইহীন তথ্য বা গুজব ছড়াতে নিষেধ করেছেন।

