চীনের বেইজিংয়ে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী 'ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস'-এর সমাপনী দিনে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে। বুধবার এই প্রতিযোগিতায় একটি রোবট ১০০ মিটার দৌড় সম্পন্ন করেছে মাত্র ৮.৬৪ সেকেন্ডে, যা আগের দিনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে মঙ্গলবার একই প্রতিযোগিতায় একটি রোবট ৮.৮৬ সেকেন্ডে এবং চার দিন আগে ৯.৩৯ সেকেন্ডে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিল। তুলনামূলকভাবে, ২০০৯ সালে উসাইন বোল্টের করা মানুষের ১০০ মিটারের বিশ্বরেকর্ডটি ছিল ৯.৫৮ সেকেন্ডের।
প্রতিযোগিতার এই আসরে ফুটবল, বক্সিং এবং দৌড়সহ অলিম্পিক ধাঁচের বিভিন্ন ইভেন্টে দুই হাজারেরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট অংশ নেয়। তবে দৌড় প্রতিযোগিতায় রোবটগুলোর শেষটা ছিল নাটকীয়। চ্যাম্পিয়ন রোবটসহ বেশ কয়েকটি দৌড়বিদ ফিনিশ লাইন অতিক্রম করার পর প্যাডেড দেওয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এ সময় কিছু রোবট থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে ছুটে আসেন এবং মাটিতে পড়ে থাকা মেশিনগুলোতে স্প্রে করেন। শেষ পর্যন্ত প্রায় সব রোবটকেই স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্র্যাকের মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে হিউম্যানয়েড রোবটগুলোর উন্নতি প্রশংসনীয় হলেও বাস্তব পৃথিবীর জটিল পরিবেশ মোকাবিলা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির রোবোটিক্সের অধ্যাপক জোনাথন হার্স্ট বলেন, রোবটগুলোর প্রকৃত অগ্রগতি তখনই পরিমাপ করা যাবে, যখন সেগুলো গুদাম বা কারখানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে পারবে। উল্লেখ্য, রোবটগুলো কেবল দৌড় নয়, বরং ঘরের কাজ, হোটেল সেবা এবং জরুরি সাড়া প্রদানের মতো বাস্তব জীবনের কাজগুলোতেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
প্রতিযোগিতায় রেকর্ড গড়া তিনটি রোবটই 'টিয়ানগং আল্ট্রা' মডেলের, যা ২০২৩ সালে বেইজিংয়ে প্রতিষ্ঠিত 'বেইজিং ইনোভেশন সেন্টার অব হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স' বা 'এক্স-হিউম্যানয়েড' কর্তৃক উদ্ভাবিত হয়েছে।

