ব্যস্ত সময়সূচির মাঝেও লস অ্যাঞ্জেলেসের দুই বন্ধু অ্যানালাইজ তালাভেরা এবং কারমেন রেনে স্মিথ একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে বেছে নিয়েছেন কস্টকোকে। কেনাকাটার ফাঁকে তারা গল্প করেন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার খেয়ে সময় কাটান। স্মিথের মতে, বাইরে রেস্তোরাঁয় ২০০ ডলার খরচ করার চেয়ে কস্টকোতে কেনাকাটা ও খাবার খাওয়া অনেক বেশি কার্যকর ও আনন্দদায়ক। তাদের এই কেনাকাটার সঙ্গী স্টিট ভারী কার্ট ঠেলে ও মালামাল নামানোর কাজ করেন, আর বেইলেস তালিকা ধরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন বোতলজাত পানি, চিনি ও টয়লেট পেপার চেক করেন। বেইলেসের ভাষায়, এটি অনেকটা ডেট নাইটের মতো, তবে উদ্দেশ্যমূলক একটি বিকেল।
স্যান হোসের অ্যালিসা মুনোজের মতো অনেকেই এখন পার্কের বদলে কস্টকোকে তাদের সাপ্তাহিক আড্ডার জায়গা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। কস্টকোর ফুড কোর্টে শিশুদের নিয়ে সময় কাটানো এবং কেনাকাটা সেরে ফেলা তাদের জন্য এক নতুন রুটিনে পরিণত হয়েছে। গ্লোবালডেটা রিটেইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নীল সন্ডার্সের মতে, কস্টকো কেবল পণ্য কেনার জায়গা নয়, এটি একটি সামাজিক গন্তব্য হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা কস্টকোর এই অবস্থাকে 'থার্ড প্লেস' বা তৃতীয় স্থান হিসেবে অভিহিত করছেন, যা বাড়ি ও কর্মস্থলের বাইরে মানুষের সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম। কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেসিকা ফিনলের মতে, কস্টকো শারীরিকভাবে সহজলভ্য, কম খরচের এবং সব বয়সীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় এটি একটি আদর্শ সামাজিক হাব।
কস্টকোর নিয়মিত সদস্য উইল সিড ১৯৮৮ সাল থেকেই এই জায়গার নিয়মিত দর্শক। তার নিয়মিত উপস্থিতির কারণে কর্মীদের কাছে তিনি বেশ পরিচিত। কস্টকোর জনপ্রিয়তা কতটা ব্যাপক তা নিউমারেটরের তথ্যে স্পষ্ট; গত এক বছরে প্রায় ৭ কোটি ২৩ লাখ পরিবার এখানে কেনাকাটা করেছে। প্লেসার ডট এআই-এর তথ্য অনুযায়ী, কস্টকোতে একজন ক্রেতা সাধারণ মুদি দোকানের তুলনায় গড়ে ১৫ মিনিট বেশি সময় ব্যয় করেন।
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করতেও কস্টকো ভূমিকা রাখছে। জ্যাকসন স্মিথ 'মেনস মেন্টাল হেলথ কস্টকো ক্লাব' প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা পুরুষদের একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করছে। এছাড়া টেনেসির 'ক্যাম্প কস্টকো' বা মিডল টেনেসির ভেটেরান সাপোর্ট গ্রুপ কয়েক দশক ধরে প্রবীণ সেনাদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। পল নাপোলি, যিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের আগে মেরিন কোরে কাজ করেছেন, জানান যে ২০১০ সালে ১০ জন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই গ্রুপে এখন কয়েকশ সদস্য রয়েছে।
কস্টকোর এই সামাজিক আকর্ষণের প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিগত জীবনেও। অনেক দম্পতি এখানে ডেটে যান, এমনকি কস্টকোতে পরিচয় হওয়া জুলেস প্যারিস ও মার্গট শিন পরে সেই স্টোরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। রবার্ট বোনিলার মতো ক্রেতারাও এখানে খুঁজে পেয়েছেন তাদের ভালোবাসার গল্প। ডেভিড ও সুসান সোয়ার্টজ দম্পতি বিশ্বজুড়ে ২০০টিরও বেশি কস্টকো স্টোর ভ্রমণ করে তাদের অভিজ্ঞতার ওপর বই লিখেছেন। কস্টকোর এই অদ্ভুত সামাজিক আবহ দেশজুড়ে মানুষের একাকিত্ব কাটিয়ে নতুন বন্ধুত্বের পথ তৈরি করছে।
