যুক্তরাষ্ট্রে ডে-লাইট সেভিং টাইম শেষ হওয়ার সময় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার প্রথাটি এখনো বহাল রয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সময় ভোর ২টায় ঘড়ি এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত ১টা করা হবে। এর ফলে আমেরিকানরা অতিরিক্ত এক ঘণ্টা ঘুমের সুযোগ পেলেও শীতকাল জুড়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে পরিবর্তন আসবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এই প্রথা বন্ধ করতে আগ্রহী। তিনি ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাসের জন্য সিনেটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এই আইন পাস হলে বছরে দুবার ঘড়ি পরিবর্তনের ঝামেলা চিরতরে বন্ধ হবে এবং ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী রূপ পাবে। ট্রাম্পের মতে, ঘড়ি পরিবর্তন করা একটি ‘বোকামি’ এবং এটি ব্যয়বহুল ও অসুবিধাজনক। তিনি মনে করেন, স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
যদিও প্রতিনিধি পরিষদ জুলাই মাসে এই বিলটি অনুমোদন করেছে, তবে সিনেটে এর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। সিনেট বর্তমানে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবকাশে রয়েছে। সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন বিলটি পাসের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ১ নভেম্বরের আগে আইনটি কার্যকর করতে হলে কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রথা পরিবর্তনের বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। অনেকে মনে করেন, বছরে দুবার ঘড়ি পরিবর্তনের ফলে মানুষের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইমের চেয়ে ‘স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপযোগী। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক হারজোগের মতে, স্ট্যান্ডার্ড টাইম মানুষের শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ির সাথে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ধর্মীয় সংগঠনগুলোও স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইমের বিরোধিতা করছে। অর্থোডক্স ইউনিয়নের রাব্বি জোশ জোসেফ জানিয়েছেন, ইহুদিদের ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেও ভোরের নামাজের সময় নিয়ে একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ বছরে দুবার ঘড়ি পরিবর্তনের এই নিয়ম থেকে মুক্তি চায়। ২০২৩ সালের ইউগভ জরিপে ৬২ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের গ্যালাপ জরিপে ৫৪ শতাংশ মানুষ এই প্রথা বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছিল। তবে স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম নাকি স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইম—তা নিয়ে জনমত বিভক্ত। বর্তমানে কংগ্রেস দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ১ নভেম্বর আমেরিকার বাসিন্দাদের ঘড়ির কাঁটা পিছিয়েই রাখতে হবে।

