দক্ষিণ সুদানে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী কর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৩৬ জন ত্রাণ কর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন, যা গত পুরো বছরের মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩১-কে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী রামনাথন বালাকৃষ্ণান এই পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিহতদের অধিকাংশই দক্ষিণ সুদানের নাগরিক।'
জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ত্রাণ কর্মী ও তাদের সম্পদের ওপর ৪৫০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সংঘাতপূর্ণ এই দেশটিতে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে, যারা ২০১১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই নানামুখী সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিপর্যস্ত।
সরকারি বাহিনী ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় অনেক ত্রাণ সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং ৭.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মানবিক সংস্থাগুলো দক্ষিণ সুদান সরকার এবং ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ত্রাণ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, হামলার ঘটনাগুলো তদন্ত করে এবং মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর পথ নিরাপদ ও বাধাহীন রাখে। এছাড়া, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছে যে, অর্থ সংকটের কারণে দক্ষিণ সুদানে আশ্রয় নেওয়া ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী জরুরি খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

