কেনিয়ার আম্বোসেলি জাতীয় উদ্যান ও এর আশেপাশের এলাকায় গত এক মাসে ১৫টি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ। কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস জানিয়েছে, মৃত হাতিগুলোর মধ্যে ১০টি মারা যাওয়ার আগে দুই দিন ধরে আংশিক পক্ষাঘাতের লক্ষণ প্রদর্শন করেছিল। বাকি পাঁচটি হাতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যাদের শরীরের কিছু অংশ শিয়াল বা অন্যান্য শিকারি প্রাণী খেয়ে ফেলেছিল।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মৃত হাতিগুলোর মধ্যে মাত্র একটি পুরুষ হাতি ছিল এবং বাকিগুলো ছিল মাদি হাতি ও তাদের শাবক। পার্কের আশেপাশের কিমানা অভয়ারণ্য এবং কুকু র্যাঞ্চ এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে। অতীতে কেনিয়ায় চোরাচালান বা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বের জেরে বিষপ্রয়োগে হাতি হত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবরেটরিতে মৃত হাতিগুলোর নমুনা পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে একটি সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে সরকারি রসায়নবিদের আলাদা বিশ্লেষণে ওই বিষের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ আরও বিস্তারিত পরীক্ষা চালাচ্ছে।
বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাতিগুলো কোনো সাধারণ বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পানি ও পরিবেশের অন্যান্য সম্ভাব্য দূষণকারী উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, এই অবস্থা মানুষের মধ্যে ছড়ানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

