কেনিয়া ও ব্রিটেন দেশটিতে ব্রিটিশ সেনাদের সামরিক প্রশিক্ষণ পুনরায় শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের কারণে এই কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। মূলত স্থানীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে কেনিয়ার আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের কারণেই এই বিলম্ব ঘটেছিল।
কেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসালিয়া মুদাভাদি জানিয়েছেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তি-নিরাপত্তার অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্তকে সরকার স্বাগত জানিয়েছে। এর আগে ২৩ জুলাই প্রশিক্ষণের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কেনিয়া সরকার এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমের সেই প্রতিবেদনগুলো নাকচ করে দিয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল যে ব্রিটেন কেনিয়া থেকে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তানজানিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেনিয়া সরকার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমতি প্রদানে সম্মত হয়েছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। বর্তমানে প্রায় ২০০ ব্রিটিশ সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে কেনিয়ায় অবস্থান করছেন, যারা প্রতি বছর ১,০০০-এর বেশি কেনিয়ান সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো সোমালিয়ার আল-শাবাব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কেনিয়ান সেনাদের প্রস্তুত করা। এই অংশীদারিত্বের পেছনে ব্রিটিশ সরকার বার্ষিক ১.১ বিলিয়ন কেনিয়ান শিলিং বা প্রায় ৯.৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে থাকে।
তবে ব্রিটিশ সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে কেনিয়ায় দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ২০১২ সালে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাছে নানিউকির একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে ২১ বছর বয়সী অ্যাগনেস ওয়ানজিরুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর আগে ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে তাকে একটি বারে দেখা গিয়েছিল বলে সাক্ষীরা জানিয়েছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে ব্রিটিশ সেনাদের অসাবধানতায় সৃষ্ট আগুনে লোলদাইগা কনজারভেন্সির ১২,০০০ একরের বেশি বনভূমি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে পূর্ববর্তী প্রশিক্ষণ মহড়াগুলোতে ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারই মন্তব্য করেনি।

